ভোটারদের হুমকি দিয়ে ক্ষমতার আস্ফালন দেখানোর ঘটনা নতুন নয়। প্রচারে বেরিয়ে সাধারণ ভোটারদের মুখে বিরোধীদের নামগান শুনলেই চড়াও হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। হুমকি এমনকি মারধরের ঘটনাও সামনে আসছে। এবার বীরভূম জেলার লাভপুর বিধানসভার অন্তর্গত দরকা গ্রামে ভোটের আগেই ছড়াল চরম উত্তেজনা। বিস্ফোরক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সমর্থকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডালিম শেখ।
অভিযোগ, একটি দলীয় গ্রাম্য বৈঠকের সময়ে শাসক দলের নেতা ডালিম শেখ গ্রামবাসীদের হুমকি দেন। স্থানীয়দের দাবি, ডালিম শেখ নাকি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি ভোট অন্য কোনও দলে পড়ে, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। এমনকি ভোটদাতাদের তালিকা প্রকাশ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই অভিযোগ ঘিরে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। (West Bengal Election)
বিরোধীদের অভিযোগ, ওই তৃণমূল সমর্থক ভোটারদের শারীরিক হেনস্তার হুমকিও দিয়েছে। এমনকি “অন্য কোথাও ভোট পড়লে কেটে পিস পিস করে দেওয়া হবে”—এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান নিউজ পয়েন্ট।
West Bengal Assembly Election: বারুইপুরে আক্রান্ত সিপিএম, মঞ্চ তৈরির সময়ে হামলা, অভিযুক্ত তৃণমূল
লাভপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ওঝা এই অভিযোগ তুলে তৃণমূলের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে এবং তাঁরা আশাবাদী কমিশন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উল্টোদিকে লাভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিনহা জানান, এরকম কোনও ঘটনার কথা তিনি শোনেননি। আর যে ভিডিয়োটির ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটি আদৌ সত্যি কি না সে বিষয়েও সংশয় রয়েছে। তাছাড়া ডালিম শেখ সরাসরি ভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কোনও নেতা বা প্রার্থী নন। তাই তাঁর মন্তব্যের দায় শাসকদলের নয়। তারা এই ঘটনাকে সমর্থন করেন না। (West Bengal Election)
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে যদিও এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি, তবুও প্রশ্ন উঠছে ভারতের মতো একটি গনতান্ত্রিক দেশে যেখানে প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দের দলকে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে সেখানে কী করে এই ডালিম শেখের মতো লোকেরা প্রকাশ্যে হুমকি দিতে পারেন? ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনেও। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।











