গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন ও নতুন করে সেটাকে তৈরি করা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রস্তাবিত ‘Gaza Board of Peace’-এ যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো ভারতকে। এই বোর্ডের লক্ষ্য, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগে তিনটি স্তর থাকবে। শীর্ষ বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন ট্রাম্প স্বয়ং। পাশাপাশি থাকবে প্যালেস্টাইনের টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে একটি কমিটি, যারা সরাসরি গাজার শাসন দেখভাল করবে। তৃতীয় স্তরে থাকবে একটি ‘এক্সিকিউটিভ বোর্ড’, যার ভূমিকা হবে পরামর্শ দেওয়া। ১৫ জানুয়ারি ঘোষিত ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বোর্ড গঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য আন্তর্জাতিক সংঘাত মেটাতেও এই মডেল ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এমন একটি দেশ, যাদের সঙ্গে ইজরায়েল এবং প্যালেস্টাইন দুই দেশের ভালো সম্পর্ক। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষাগত চুক্তি রয়েছে এবং ইজরায়েল ভারতের বন্ধুরাষ্ট্র। আবার প্যালেস্টাইনের জন্য নিয়মিত মানবিক সাহায্য ও কূটনৈতিক সমর্থনও দিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর গাজায় প্রথম দিকেই মিশরের মাধ্যমে ত্রাণ পাঠিয়েছিল ভারত।
#BREAKING: US President Donald Trump’s letter to Prime Minister @narendramodi inviting him to be part of The Board of Peace for Gaza and future conflicts. @NDTV had earlier reported invitation to India by President Trump. pic.twitter.com/EwSnJKwsES
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) January 18, 2026
এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে পাকিস্তানও। তবে ইজরায়েলে ভারতের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার আগেই জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ গাজা প্রশাসনে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি ইজরায়েল গ্রহণ করবে না। যার ফলে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
যদিও ট্রাম্পের এই উদ্যোগ ঘিরে বিশ্ব সতর্ক। প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কেবল হাঙ্গেরি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এই বোর্ড UN-এর ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে। কারণ, এতদিন এই কাজটা UN করত। সেটা আমেরিকা করলে UN-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
এদিকে ১১ সদস্যের গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডে তুরস্ক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আপত্তি তুলেছে ইজরায়েল। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইজরায়েলের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, বোর্ডের গঠন ইজরায়েলের সঙ্গে কথা না বলেই হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘Board of Peace’ শুধু গাজা নয়, বিশ্ব কূটনীতির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল—এতে ভারত কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।











