ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা যুদ্ধ শেষ নিয়ে এ বার আশার কথা শোনালেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে (US-Iran Peace Deal) এবং শীঘ্রই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এখনো কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, ফলে চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও বজায় আছে।
শনিবার নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি “Memorandum of Understanding” বা সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্পের দাবি
ট্রাম্প বলেন, “একটি চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।” তিনি আরও জানান, (US-Iran Peace Deal) চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ স্ট্রেইট অব হরমুজ পুনরায় চালু করা। এই জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট। ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির “শেষ দিকের বিস্তারিত বিষয়গুলো” এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে।

আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বড় কূটনৈতিক যোগাযোগ
ট্রাম্প জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে একাধিক আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। এই তালিকায় ছিল- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, বাহরিন এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই আলোচনাগুলোর মূল বিষয়বস্তু ছিল ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য (US-Iran Peace Deal) চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় পরিসরের কূটনৈতিক সংযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র একটি আঞ্চলিক “মাল্টি-স্টেকহোল্ডার” শান্তি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে।
ইরানের অবস্থান
তেহরান অবশ্য ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এখনও একটি “ফ্রেমওয়ার্ক মেমোরেন্ডাম”-এর খসড়া তৈরি করছে, যেখানে মোট ১৪টি ধারা থাকতে পারে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী—
- এই পর্যায়ে পরমাণু আলোচনার মূল অংশ নয়
- মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ পরিস্থিতি কমানো এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা
- হরমুজ প্রণালীতে কোনও সিদ্ধান্ত ইরান, ওমান এবং উপকূলীয় দেশগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে হবে
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই জলপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না
এই অবস্থান ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করছে।
পাকিস্তানের জাফর এক্সপ্রেসে আত্মঘাতী হামলা, নিহত কমপক্ষে ১৬, জখম ৩০
বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী
স্ট্রেইট অব হরমুজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায়—
- বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামে অস্থিরতা
- যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি
- ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর চাপ
- এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরতে পারে।
(US-Iran Peace Deal) সম্ভাব্য চুক্তির রোডম্যাপ
রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো তিনটি ধাপে এগোতে পারে—
- যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা
- হরমুজ প্রণালীর সংকট সমাধান
- ৩০ দিনের আলোচনার পর আরও বড় শান্তি চুক্তি
এছাড়া ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার কথাও শোনা যাচ্ছে।
পরমাণু ইস্যুতে কঠোর অবস্থান আমেরিকার
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় নতুন প্রশ্ন উঠছে—চুক্তি কি সত্যিই পূর্ণাঙ্গ নাকি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার প্রাথমিক ধাপ?
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শনিবার রাত পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। উভয় পক্ষই জানিয়েছে, আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি একদিকে বলেছেন (US-Iran Peace Deal) শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, অন্যদিকে সতর্ক করে দিয়েছেন—চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে “কঠোর পদক্ষেপ” নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত বার্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত রাখছে এবং আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
পাকিস্তানের জাফর এক্সপ্রেসে আত্মঘাতী হামলা, নিহত কমপক্ষে ১৬, জখম ৩০












