চলতি বছরেই শুরু হতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। এই প্রথমবার তিনটি দেশ—আমেরিকা, কানাডা ও মরোক্কো—যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসর। শুরু থেকেই এই আয়োজন ছিল চ্যালেঞ্জিং। তবে এ বার সেই চ্যালেঞ্জ আরও জটিল আকার নিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশনীতির জেরে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেও বাতিল করছেন হাজার হাজার সমর্থক। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ বারের বিশ্বকাপ কি সত্যিই ঝুঁকির মুখে পড়ছে?
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপ। মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই হবে আমেরিকায়। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হলেও প্রথম দিকে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ফিফার দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছিল। যেখানে বিক্রি হওয়ার সম্ভাব্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬–৭ মিলিয়ন, সেখানে এই বিপুল আগ্রহ ফিফাকেও অবাক করেছিল।
কিন্তু সেই উন্মাদনা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আমেরিকার কড়া ভিসা নীতি, অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু সমর্থক আমেরিকায় ঢোকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এর ফলেই প্রায় ১৬,৮০০ থেকে ১৭,০০০ সমর্থক আগাম টিকিট বাতিল করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় #BoycottWorldCup ট্রেন্ড করতে শুরু করেছে। মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও অবাধ যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেকেই আমেরিকায় বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিচ্ছেন। যদিও ফিফা টিকিট বাতিলে কড়া ক্যানসেলেশন ফি চালু করেছে, তবুও সমর্থকদের একাংশ সেই ক্ষতিও মেনে নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় প্রকাশ্যে না এলেও ধারণা করা হচ্ছে, সমর্থকদের নিরাপত্তা, ভিসা সমস্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি একটি বিশ্বজনীন উৎসব। সেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ছায়া পড়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
যদিও ফিফার একাংশের দাবি, টিকিট বাতিলের সংখ্যা মোট বিক্রির তুলনায় এখনও খুব বেশি নয়। তবু পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে দর্শকসংখ্যা ও রাজস্ব—দু’দিকেই প্রভাব পড়তে পারে। এখন ফুটবল দুনিয়ার নজর ফিফার সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।











