পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে পরপর বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী হামলা ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। শনিবার থেকে রবিবার, মাত্র ৪০ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কোয়েট্টা, নুশকি, মাসটাং, ডালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, গদর ও পাসনি। এই হামলার নেপথ্যে থাকা দুই তরুণী আত্মঘাতী হামলাকারীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করেছে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। একই সঙ্গে পাক সেনার দাবি, পাল্টা অভিযানে ১৪৩ জন বালোচ-বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। যদিও সাধারণ নাগরিক ও সেনা জওয়ানের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।
BLA জানিয়েছে, এই হামলায় নেতৃত্বে ছিলেন দুই মহিলা, হাওয়া বালোচ ও আসিফা মেঙ্গল। দু’জনেই সংগঠনের মাজিদ ব্রিগেডের সদস্য। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ২৩ বছরের আসিফা ৩১ জানুয়ারি নুশকিতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর সদর দফতরে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালান। অন্যদিকে, হাওয়া বালোচ গদর এলাকায় সংঘর্ষে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান। তাঁর বাবা নবি বক্সও বালোচ বিদ্রোহী ছিলেন, যিনি ২০২১ সালে পাক সেনার অভিযানে নিহত হন।
বালোচ-বিদ্রোহীদের প্রকাশ করা ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আত্মঘাতী হামলার আগে অস্ত্র হাতে হাসতে হাসতে বক্তব্য রাখছেন ওই তরুণীরা। সেখানে পাক সরকারের বিরুদ্ধে নারী নিপীড়ন ও দমননীতির অভিযোগ তুলে বালোচ মহিলাদের অস্ত্র ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। BLA এই ধারাবাহিক হামলাকে ‘অপারেশন হেরোফ—ফেজ ওয়ান’ বলে দাবি করেছে এবং জানিয়েছে, এতে তাদের ১৮ জন সদস্য মারা গিয়েছেন।
#BLA the group behind ongoing coordinated attacks in #Balochistan has released a video showing one of its female fighters “Hawa Baloch” aka Droshum, reportedly filmed during a battle.
— Hammad Baloch (@Hammad_Baluch) February 1, 2026
Reports suggest more female fighters are involved but yet to be identified. pic.twitter.com/8bLY3iJSZ7
অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনা ও বালোচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১৪৫ জন বিদ্রোহী ও ১৭ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। পাক সরকারের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে এবং ভারতের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাদের উচিত বালোচ জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।
সব মিলিয়ে, বালোচিস্তানে নারী নেতৃত্বে আত্মঘাতী হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।











