হান্টাভাইরাসে (Hantavirus) আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ এমভি হোন্ডিয়াসকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়ল। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রুকে বিশেষ সামরিক ও সরকারি বিমানে নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে—এক ডাচ দম্পতি এবং এক জার্মান মহিলা। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের ৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইনের সুপারিশ করেছে।
কীভাবে সরানো হল যাত্রীদের?
জাহাজ থেকে যাত্রীদের নামানোর পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। (Hantavirus) প্রত্যেককে নীল রঙের মেডিক্যাল সুরক্ষা পোশাক ও বিশেষ মাস্ক পরিয়ে ছোট নৌকায় করে টেনেরিফের একটি শিল্প বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্প্যানিশ সেনাবাহিনীর বাসে করে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁদের। বাসচালক ও যাত্রীদের মধ্যে ছিল বিশেষ সুরক্ষা বোর্ড। বিমানবন্দরে পৌঁছে আবার নতুন সুরক্ষা সরঞ্জাম পরানো হয়। এমনকি বিমানে ওঠার আগে মেডিক্যাল অফিসারদের দ্বারা জীবাণুনাশক স্প্রে করতেও দেখা গিয়েছে যাত্রীদের উপর।
৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইন, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশ করেছে, প্রত্যেক যাত্রী ও ক্রুকে ৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এই সময় প্রতিদিন জ্বর বা অন্য উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে WHO স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়। সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, WHO কোনও দেশকে জোর করে নির্দেশ মানাতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এত দীর্ঘ সময় বাড়িতে বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আলাদা থাকা অনেকের পক্ষেই কঠিন হতে পারে। তাই বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে কড়া নিয়ম চালু করছে।
ব্রিটেন থেকে অস্ট্রেলিয়া—কোথায় কী ব্যবস্থা?
ব্রিটেনে ফেরত আসা যাত্রীদের প্রথমে লিভারপুলের কাছে অ্যারো পার্ক হাসপাতালে রাখা হচ্ছে। (Hantavirus) প্রাথমিকভাবে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী আইসোলেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়া আরও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। সেখানে যাত্রীদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিশেষ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিডনির পশ্চিমাংশের ওই হাসপাতালটি ইবোলার মতো “হাই কনসিকোয়েন্স” সংক্রামক রোগ মোকাবিলার জন্য তৈরি। সেখানে আলাদা হেলিপ্যাড, নিজস্ব বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ইউনিট রয়েছে।
ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের দেশে ফেরা প্রত্যেককে “কঠোর আইসোলেশনে” রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক ফরাসি যাত্রীর মধ্যে উপসর্গ দেখা গিয়েছে বলে খবর।
গ্রিস সবচেয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে এক যাত্রীকে এথেন্সের অ্যাটিকন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ৪৫ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। তাঁকে রাখা হবে বিশেষ নেগেটিভ-প্রেসার চেম্বারে।
স্পেনেও ১৪ জন নাগরিককে মাদ্রিদের গোমেজ উল্লা সামরিক হাসপাতালে বায়োসেফটি আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হচ্ছে।
ফিলিপিন্স জানিয়েছে, জাহাজে কর্মরত ৩৮ জন ফিলিপিনো নাবিককে প্রথমে রটারডামে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। ভারতের দুই ক্রুকেও নেদারল্যান্ডসে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁরা আপাতত সুস্থ ও উপসর্গহীন বলে জানা গেছে।
আটলান্টিকে ক্রুজ জাহাজে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক, মৃত্যু ৩ — কতটা ভয়ংকর এই সংক্রমণ?: Hantavirus: হান্টাভাইরাস আতঙ্কে ৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইন, বিশ্ব জুড়ে কড়া নজরWHO ছাড়ার পরও সতর্ক আমেরিকা
আমেরিকা যদিও জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে WHO থেকে বেরিয়ে এসেছে, তবু সতর্কতা কমায়নি। ১৭ জন মার্কিন নাগরিক ও একজন ব্রিটিশ নাগরিককে নেব্রাস্কার একটি বিশেষ কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁদের সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। মার্কিন স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, একজন যাত্রীর মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা গিয়েছে এবং আরেকজনের শরীরে (Hantavirus) আন্দিজ স্ট্রেইন-এর ভাইরাসের সামান্য উপস্থিতি মিলেছে।
এদিকে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে যে, কিছু আমেরিকান যাত্রী আগেই দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে দেশে ফিরে গিয়েছেন। তাঁদের ওপর এখন নজর রাখছে অ্যারিজোনা, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া এবং জর্জিয়া—এই চার রাজ্য।
জাহাজ ও ক্রুদের কী হবে?
WHO নির্দেশ দিয়েছে, জাহাজটিকে সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ হান্টাভাইরাস (Hantavirus) সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। পুরো জাহাজ পরীক্ষা করে পরিষ্কার করার সময় কর্মীদের পিপিই, গ্লাভস, গাউন ও রেসপিরেটর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আতঙ্ক নয়, সতর্কতা জরুরি
বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হলেও WHO বারবার বলছে, এটি “কোভিড” নয়। (Hantavirus) সংক্রমণের হার সীমিত এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম। তবে সতর্কতা, দ্রুত আইসোলেশন এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধিই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য দফতরগুলিও তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
ইরান সরকার পতনের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর! ,বাড়ছে যুদ্ধ আশঙ্কা: Hantavirus: হান্টাভাইরাস আতঙ্কে ৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইন, বিশ্ব জুড়ে কড়া নজর












1 thought on “Hantavirus: হান্টাভাইরাস আতঙ্কে ৪২ দিনের কোয়ারেন্টাইন, বিশ্ব জুড়ে কড়া নজর”