ফের উত্তেজনার পারদ চড়াল হরমুজ প্রণালী। ইরান আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন, বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন নীতি, ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। (Strait of Hormuz )
ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে তাদের নৌ-অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি। ফলে ইরানগামী সমস্ত জাহাজের অবাধ যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যতদিন না আমেরিকা এই অবাধ চলাচল নিশ্চিত করছে, ততদিন প্রণালী বন্ধই থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়তে পারে। (Strait of Hormuz )
এরই মধ্যে কূটনৈতিকস্তরে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার ইসলামাবাদে বসতে চলেছে ইরান ও আমেরিকার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা। তার আগে রবিবারই পাকিস্তানে পৌঁছে যেতে পারে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। তবে আলোচনার ঠিক আগে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কূটনৈতিক মহলে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গত শুক্রবার ইরান জানিয়েছিল যে তারা প্রণালী খুলে দিতে রাজি। কিন্তু পরে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দেয়, তেহরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি-সহ কোনও চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। এমনকি সেই অবরোধে কোনওরকম শিথিলতাও আনা হবে না। এই অবস্থানের জেরেই ইরান দ্রুত তাদের সিদ্ধান্ত বদল করে ফের প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। (Strait of Hormuz )












