বাড়ি থেকে সোনা চুরি শুনেছেন, টাকা পয়সা চুরির কথাও শুনেছেন। কিন্তু চোর এক গাড়ি চকলেট চুরি করেছে, এমনটা কখনও শুনেছেন? শোনেননি তো? এবার শুনবেন এক চোরের গল্প। যে কিনা এক গাড়ি চকলেট (KitKat Heist) নিয়ে পালাল। আর এই ভিডিয়োই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ঘটনাটি ঘটেছে ইতালি এবং পোল্যান্ডের মাঝে। নেসলের কারখানা থেকে একটি ট্রাকে প্রায় ১২,০০০ কেজি কিটক্যাট চকলেট লোড করা হয়েছিল, সংখ্যায় যা ৪ লাখ। এই চালানটি ইউরোপের বাজারে বিক্রির জন্য যাচ্ছিল, কিন্তু মাঝ রাস্তাতেই ট্রাকটি তার ভেতরের সমস্ত চকলেট সমেত ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ হয়ে যায়। চোরেরা এতটাই নিখুঁতভাবে এই ডাকাতি করেছে যে, পুলিশ এবং কোম্পানি এখনও কোনও কিনারা খুঁজে পায়নি।
এই চুরির পর নেসলে (KitKat Heist) একটি অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে ১২ টন কিটক্যাট সত্যিই চুরি গিয়েছে। তবে ভালো খবর হল, এর ফলে বাজারে চকলেটের যোগানে কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু, নেসলে ক্রেতা, খুচরো বিক্রেতা এবং পাইকারি বিক্রেতাদের জন্য একটি সতর্কতা জারি করেছে। কোম্পানি বলেছে, যে কোনও প্যাকেট কেনার আগে ভালো করে দেখে নিতে। চোরদের চুরি করা কিটক্যাট প্যাকেটগুলিতে একটি বিশেষ ‘ব্যাচ কোড’ আছে। যদি আপনার মনে হয় যে আপনার কাছে চুরির মাল এসেছে, তাহলে প্যাকেটের কোডটি কীভাবে যাচাই করবেন, নেসলে তা জানিয়ে দিয়েছে। পেন্টাগন নয়, বরং স্থানীয় পুলিশই এখন এই ‘চকলেট মার্ডার মিস্ট্রি’র সমাধান করার চেষ্টা করছে। নেসলে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে চুরি হওয়া মাল ট্র্যাক করা সম্ভব।
এই বিপুল পরিমাণ চকলেট চুরির ঘটনায় কিটক্যাট কর্তৃপক্ষ একটি মজাদার কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, “আমরা অপরাধীদের অসাধারণ স্বাদবোধের প্রশংসা করছি ঠিকই, কিন্তু বাস্তব ঘটনা হলো, এই ধরনের কার্গো চুরির ঘটনা বর্তমানে ছোট-বড় সব ব্যবসার জন্যই একটি ত্রমবর্ধমান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
তবে অনেকেই সমাজমাধ্যমে মজা করে লিখছেন, ইউরোপের একদল চোরের বোধহয় খুব ‘ব্রেক’-এর দরকার ছিল। আরেকজন কমেন্ট করেছেন, ‘আমার তো মনে হচ্ছে এটা কোনও হাসির সিনেমার গল্প, যা সত্যি হয়ে গেছে।’












