---Advertisement---

স্পেনের তিকিতাকা, একপেশে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ওড়াল ইয়ামালরা

June 22, 2026 12:32 AM
Spain vs Saudi Arabia
---Advertisement---

আটলান্টার (Spain vs Saudi Arabia) ম্যাচটা ছিল স্প্যানিশ ফুটবলের শিল্পময় প্রদর্শনী। বলের দখল, দ্রুত পাসিং, একের পর এক আক্রমণ আর নিখুঁত ফিনিশিং—সব মিলিয়ে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল স্পেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (Spain vs Saudi Arabia) ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে লা রোজা শুধু তিন পয়েন্টই তুলল না, গ্রুপের পয়েন্ট তালিকাতেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, দানি ওলমো, পেদ্রি, রদ্রি ও পেদ্রো পোরোরা যে গতিতে আক্রমণ সাজিয়েছেন, তা দেখে মনে হয়েছে যেন প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন গোল আসতে চলেছে।

(Spain vs Saudi Arabia) ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন ঝাঁপিয়ে পড়ে। দ্বিতীয় মিনিটেই পেদ্রো পোরোর নিখুঁত পাসে আলেক্স বায়েনা বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন, কিন্তু সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস দুর্দান্ত সেভ করেন। একই মিনিটে স্পেন প্রথম কর্নারও আদায় করে নেয়।

চার মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর দানি ওলমো, পেদ্রো পোরো ও পেদ্রি একাধিক প্রচেষ্টা চালালেও গোলের দেখা মিলছিল না। তবে স্পেনের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল।

অবশেষে ১০ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। মিকেল ওয়ারজাবালের বাড়ানো বল থেকে লামিনে ইয়ামাল গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তরুণ এই তারকার ফিনিশিং ছিল ঠাণ্ডা মাথার ও নিখুঁত।

(Spain vs Saudi Arabia) প্রথম গোলের পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ১৭ মিনিটে ওয়ারজাবালের দূরপাল্লার শট আল-ওয়াইস সেভ করেন। কিন্তু ২১ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। কর্নার থেকে আয়মেরিক লাপোর্তের হেড করা বল পেয়ে কাছ থেকে জালে জড়িয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। স্পেনের লিড দাঁড়ায় ২-০।

তিন মিনিট পর আবারও আঘাত। ২৪ মিনিটে দানি ওলমোর হেড করা বল থেকে ওয়ারজাবাল খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল সম্পূর্ণ করেন। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৩৬ মিনিটে ওয়ারজাবালের দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। একই মিনিটে ইয়ামালের দুটি প্রচেষ্টা আল-ওয়াইস প্রতিহত করেন। সৌদি আরবের আক্রমণ বলতে ছিল বিচ্ছিন্ন কিছু কাউন্টার অ্যাটাক, যা স্প্যানিশ রক্ষণ সহজেই সামলে নেয়।

বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা স্পেন দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে কয়েকটি পরিবর্তন এনে। ওয়ারজাবালের জায়গায় ফেরান তোরেস এবং ইয়ামালের জায়গায় ইয়েরেমি পিনো নামেন। অন্যদিকে সৌদি আরবও মোহাম্মদ কান্নো ও আবদুল্লাহ আল হামদানকে মাঠে নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে।

৭ গোল হজমের দুঃস্বপ্ন থেকে ইতিহাস, এলয় রুমের হাতেই কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ রূপকথা

কিন্তু বিরতির পরও চিত্র বদলায়নি। ৪৯ মিনিটে স্পেন চতুর্থ গোল পেয়ে যায়। চাপের মুখে সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল তামবাকতি নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

এরপরও আক্রমণ থামায়নি স্পেন। ৫৩ মিনিটে ফেরান তোরেসের হেড এবং পেদ্রো পোরোর শট দুটিই আল-ওয়াইস অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন। ৬১ মিনিটে মিকেল মেরিনো, ৬২ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস এবং ৭০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ মাঠে নেমে স্পেনের আক্রমণের গতি ধরে রাখেন।

৬৫ মিনিটে মেরিনোর বাড়ানো বল থেকে তোরেসের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে সৌদি আরব কিছুটা আক্রমণে উঠলেও ৮১ মিনিটে আবদুল্লাহ আল হামদানের দূরপাল্লার শট অনায়াসে সামলে নেন উনাই সিমন।

অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু VAR পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় ৯২ মিনিটের সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ৯৫ মিনিটে VAR আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো গোল’ ঘোষণা করে।

শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। (Spain vs Saudi Arabia) ম্যাচের সেরা পারফরমার নিঃসন্দেহে মিকেল ওয়ারজাবাল, যিনি দুটি গোল করে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন। লামিনে ইয়ামাল গোলের পাশাপাশি সৌদি রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রেখেছেন। লাপোর্তে, পোরো ও দানি ওলমোও ছিলেন উজ্জ্বল। যদিও চার গোল হজম করেছে সৌদি আরব, তবু গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইসের একাধিক সেভ ব্যবধান আরও বড় হওয়া থেকে দলকে বাঁচিয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো,এই বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম ম্যাচ ছিল কেপ ভের্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ হারিয়ে তারা শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করল। অনেকটা ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরে পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের মানসিকতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

এই জয়ের ফলে স্পেন গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে তারা যে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে, আটলান্টার এই একতরফা ম্যাচ তারই আরেকটি প্রমাণ হয়ে রইল।

নেইমারের প্রত্যাবর্তন, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরতে পারেন ইঙ্গিত আন্সেলত্তির


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment