বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনার সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে নকআউটের পথ আরও মসৃণ করতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, অন্যদিকে মাঠের বাইরের বিতর্ক—ফিফার নতুন ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ম। আর্জেন্তিনা কোচ (Lionel Scaloni) লিওনেল স্কালোনি মনে করছেন, এই নতুন নিয়ম ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে।
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের স্বচ্ছন্দ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্তিনা। দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচে জয় পেলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে লিওনেল মেসিদের দল। তবে ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে ফিফার নতুন নিয়ম ‘হাইড্রেশন ব্রেক’।
স্পেনের তিকিতাকা, একপেশে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ওড়াল ইয়ামালরা
হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে স্কালোনির অসন্তোষ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে অতিরিক্ত গরমের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি অর্ধে বাধ্যতামূলক জলপানের বিরতি চালু করেছে ফিফা। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্য সামনে রাখা হলেও নিয়মটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্কালোনির মতে, এই বিরতিগুলো ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ফুটবল যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে দুই অর্ধের খেলা, সেখানে এখন ম্যাচ যেন চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে খেলার গতি, মোমেন্টাম এবং কৌশলগত প্রবাহ বারবার থেমে যাচ্ছে।
আর্জেন্তিনা কোচ মনে করেন, এই বিরতিতে পিছিয়ে থাকা বা তুলনামূলক দুর্বল দলগুলো নিজেদের সংগঠিত করার সুযোগ পায়। একইসঙ্গে শক্তিশালী দলও নতুন পরিকল্পনা সাজাতে পারে। তবে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ম্যাচের মধ্যে অতিরিক্ত বিরতি খেলার স্বাভাবিক আবহকে বদলে দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে দেখা গিয়েছে, কোনও দল যখন ছন্দ ফিরে পাচ্ছে বা আক্রমণের ধার বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই বিরতি এসে সেই গতি থামিয়ে দিয়েছে। এ কারণেই শুধু স্কালোনি নন, এর আগে উরুগুয়ের কোচ বিয়েলসাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকজন খ্যাতনামা কোচও এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অস্ট্রিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্কালোনি
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্তিনা শীর্ষে থাকলেও প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়াকে নিয়ে আত্মতুষ্টির কোনও সুযোগ দেখছেন না স্কালোনি। তার মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনও ম্যাচই সহজ নয়।
অস্ট্রিয়া বাছাইপর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে এসেছে এবং দলটি হাই প্রেসিং ফুটবলের জন্য পরিচিত। স্কালোনির বিশ্বাস, কাগজে-কলমে পার্থক্য থাকলেও মাঠে কিন্তু একটা কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও খুব সমৃদ্ধ নয়। এর আগে মাত্র দুবার দেখা হয়েছে তাদের। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল, অন্যটিতে বড় জয় পেয়েছিল আর্জেন্তিনা। সর্বশেষ দেখা ১৯৯০ সালে। তবে সেই পরিসংখ্যানকে বর্তমান বাস্তবতায় খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ স্কালোনি।
অন্যদিকে আর্জেন্তিনা শিবিরের জন্য স্বস্তির খবর, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, গঞ্জালো মনতিয়েল এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলে ফিরেছেন। ফলে স্কালোনির হাতে এখন স্কোয়াড নির্বাচনের আরও বিকল্প রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে লিওনেল মেসির আসন্ন জন্মদিনের প্রসঙ্গও। ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দেবেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক। কোচের আশা, বিশ্বকাপে দলের সাফল্যই হবে মেসির জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
৭ গোল হজমের দুঃস্বপ্ন থেকে ইতিহাস, এলয় রুমের হাতেই কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ রূপকথা
আন্সেলত্তির মন্তব্যে বিতর্ক না বাড়িয়ে জবাব
বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্তিনার খেলার ধরন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলত্তি। তিনি বলেছিলেন, আর্জেন্তিনা হয়তো সবচেয়ে বেশি দ্রুতগতির ফুটবল খেলে না, তবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার অসাধারণ ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এই মন্তব্যকে অনেকে কটাক্ষ হিসেবে দেখলেও স্কালোনি তাতে বিতর্কের কিছু খুঁজে পাননি। বরং তিনি স্পষ্ট করেছেন, আন্সেলত্তির বক্তব্যকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
স্কালোনির মতে, অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভাষাগত জটিলতার কারণেও অনেক সময় বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ হারিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি বিষয়টিকে সমালোচনা নয়, বরং প্রশংসা হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
"YO ENTENDÍ PERFECTAMENTE LO QUE DIJO ANCELOTTI. FUE UN HALAGO HACIA NOSOTROS, NO UNA CRÍTICA"
— DSPORTS (@DSports) June 22, 2026
Lionel Scaloni, sobre los dichos del DT de Brasil, quien había hecho referencia a una posible "falta de intensidad" de Argentina. #MundialEnDSPORTS #FIFAWorldCup pic.twitter.com/w4r6yPNb4H
নকআউটের পথে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ
গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্তিনার সামনে এখন স্পষ্ট লক্ষ্য—অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোর দরজা প্রায় খুলে ফেলা। অন্য ম্যাচে আলজেরিয়া ও জর্ডানের ফলও গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে ব্রাজিলও নিজেদের গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অন্তত একটি পয়েন্ট পেলেই নকআউট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দুই পরাশক্তিই আপাতত নিজেদের লক্ষ্য পূরণে ব্যস্ত।
তবে বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে স্কালোনির বার্তা পরিষ্কার—প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, আর নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কৌশল, আবহাওয়া ও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলেই শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও জোরালো হবে আর্জেন্তিনার।
বাংলার ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক, জেলার প্রতিভাদের সুযোগ বাড়ানোর বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রীর











