---Advertisement---

মহিবুল আলমের হৃদয়ের বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার অপব্যবহারে সমালোচনা, সামাজিক অবক্ষয় নিয়েও সরব

January 1, 2026 4:52 PM
Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman
---Advertisement---

সম্প্রতি বিশিষ্ট লেখক মহিবুল আলম তার এক প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করার দীর্ঘ ও জটিল পথচলার কথা তুলে ধরেছেন। শৈশবের একটি গভীর স্মৃতির মধ্য দিয়ে তাঁর বঙ্গবন্ধু-চেতনার সূচনা হলেও, সেই চেতনা পরিণত রূপ পেতে সময় নিয়েছে বহু বছর, বহু অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণের ভেতর দিয়ে। (Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman)

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সকাল লেখকের জীবনে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। খুব অল্প বয়স হলেও সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁর স্মৃতিতে স্থায়ী ছাপ ফেলে। বাবার সঙ্গে গ্রাম থেকে রেডিও শুনতে ছুটে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদ। বাবা স্তব্ধ হয়ে যাওয়া, দিশেহারা দৌড়।—সব মিলিয়ে সেই শোকের আবহ শিশুমনেও গভীর প্রভাব ফেলে। যদিও তখন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝার বয়স হয়নি, তবু সেই দিনের মানসিক অভিঘাত লেখকের চেতনায় এক অদৃশ্য বীজ বপন করে।

Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman
শুনছেন বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদ (ছবি: AI)

পরবর্তীকালে সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যে বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, লেখক তার মুখোমুখি হয়েছেন বারবার। স্কুলজীবনে এক শ্রেণির শিক্ষকের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুবিরোধী বক্তব্য শোনার অভিজ্ঞতা যেমন ছিল, তেমনি প্রবাসজীবনে উচ্চশিক্ষিত মানুষের মধ্যেও ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতা লেখকের মনে সহজ বিশ্বাসের বদলে নির্মোহতা ও প্রশ্নবোধ তৈরি করে। (Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman)

দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানের লেখক লক্ষ্য করেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা প্রচার কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যেও বিস্তৃত। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা ও আদর্শগত অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করতেও দ্বিধা করে না। এমনকি বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে লেখা সাহিত্যকর্মের প্রতিও বিদ্বেষ প্রকাশ পায়। এই অভিজ্ঞতাগুলো লেখকের মনে স্পষ্ট করে দেয়—বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করা কোনও সহজ বা সরল বিষয় নয়; এটি একটি সচেতন সংগ্রামের ফল।

এই অবস্থান বদলাতে শুরু করে প্রবাসে থাকা অবস্থায় রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে। প্রথমে কয়েকটি বই, পরে ধারাবাহিকভাবে বহু বই, দলিল, পত্রিকা ও স্মৃতিচারণ পাঠ করে লেখকের ভেতরের নির্মোহতা ধীরে ধীরে দৃঢ় উপলব্ধিতে রূপ নেয়। বঙ্গবন্ধুকে তিনি তখন আর কেবল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বাঙালির মুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করেন। (Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman)

এই উপলব্ধি আরও গভীর হয় টুঙ্গিপাড়া সফরে। বঙ্গবন্ধুর সমাধি, শৈশবের পরিবেশ, গ্রাম, নদী, প্রকৃতি—সবকিছু মিলিয়ে লেখকের সামনে বঙ্গবন্ধুর মানবিক ও ঐতিহাসিক সত্তা এক নতুন রূপে উদ্ভাসিত হয়। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শুধু আবেগতাড়িত করেনি, বরং বঙ্গবন্ধুর জীবনকে সাহিত্যিকভাবে ধারণ করার তাগিদ সৃষ্টি করেছে।

Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman
ছবি: AI

এই প্রক্রিয়ার ফল হিসেবেই লেখক বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক উপন্যাস রচনায় প্রবৃত্ত হন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একদিকে নিজের ভেতরের বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাসবিকৃতি দূর করার প্রয়াস। বঙ্গবন্ধুকে তিনি কাদামাটি থেকে উঠে আসা সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে দেখেছেন—যিনি মানুষের ভাষায় কথা বলতেন, মানুষকে আপন করে নিতেন এবং একটি জাতিকে দীর্ঘ পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেছিলেন।

প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে লেখক বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্মৃতিচিহ্নের উপর আঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ইতিহাস জুড়ে বাংলার স্বাধীনতা বারবার লুণ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে তিনি যুগান্তকারী হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ধ্বংস, মূর্তি ভাঙা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে জাতিগত আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

লেখক সমসাময়িক রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কীভাবে অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, তরুণ সমাজ ও সামাজিক নিরাপত্তা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। এই সংকটের বিপরীতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও নৈতিক অবস্থানকে তিনি একটি মানদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। (Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman)

প্রবন্ধের শেষভাগে বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশি বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ও অন্য নিপীড়িত জাতির মানুষের চোখে বঙ্গবন্ধু একজন আদর্শ নেতার প্রতিচ্ছবি। তাঁদের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসের এক অনন্য নেতৃত্ব।

সব মিলিয়ে এই প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করার যে যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে, তা আবেগের চেয়ে উপলব্ধিনির্ভর, বিশ্বাসের চেয়ে অনুসন্ধাননির্ভর। লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নন; তিনি বাঙালির ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁকে বোঝা মানে ইতিহাসকে বোঝা, আর ইতিহাসকে অস্বীকার করা মানে নিজের শেকড়কেই অস্বীকার করা। (Tribute to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman)

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment