মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে (US-IRAN Clash)। দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষের পথে, আর তার আগেই কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—সমঝোতা না হলে “অনেক বোমা পড়তে শুরু করবে”। এই মন্তব্য ঘিরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে বহুগুণ।
অন্যদিকে, পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ জানিয়েছেন, “হুমকির ছায়ায় কোনও আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।” তাঁর দাবি, গত দুই সপ্তাহে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে “নতুন কার্ড” প্রস্তুত করেছে এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না বলে ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।(US-IRAN Clash)
(US-IRAN Clash) এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্ব তেলের সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথকে ঘিরেই এখন মূল সংঘাত। মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও ইরানের কড়া অবস্থানের ফলে অঞ্চলটি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে কোনও বড় সংঘর্ষ শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।
তবে উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে নেই। পাকিস্তানে নির্ধারিত শান্তি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা মার্কিন প্রতিনিধিদলের। এই দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। যদিও বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্রের খবর, (US-IRAN Clash) দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খসড়া প্রায় তৈরি হলেও ট্রাম্পের কড়া ভাষণ ও মার্কিন অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এক ইরানি আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই ধরনের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”
পাকিস্তান নাকি একই বার্তা দিয়েছেন—উভয় পক্ষকেই সংযত ভাষায় আলোচনা চালাতে হবে। তাঁদের মতে, এই বৈঠককে ‘উইন-উইন’ হিসেবে তুলে ধরা গেলে সমাধানের পথ সহজ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আলোচনার টেবল ও যুদ্ধের ময়দান—দুটোর মাঝেই দাঁড়িয়ে এখন মার্কিন-ইরান সম্পর্ক। আগামী কয়েকদিনেই স্পষ্ট হবে, পরিস্থিতি শান্তির দিকে যাবে, নাকি নতুন সংঘর্ষের দিকে গড়াবে।












