ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে জারি থাকা নৌ অবরোধ আরও কড়া করল যুক্তরাষ্ট্র (US Iran naval blockade)। বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কম্যান্ড (সেন্টকম) একটি অডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনী স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে বলপ্রয়োগ করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, অবরোধের অংশ হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ওমান উপসাগরে সক্রিয়ভাবে টহল দিচ্ছে। অডিয়ো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন বাহিনী উপস্থিত, সজাগ এবং নিয়ম কার্যকর করতে প্রস্তুত রয়েছে। অডিয়ো বার্তায় জাহাজগুলিকে সরাসরি সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আনুষ্ঠানিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে জাহাজে উঠে তল্লাশি এবং বাজেয়াপ্ত করা হবে। জাহাজগুলিকে আরও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, “অবিলম্বে ফিরে যান এবং বোর্ডিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনি যদি এই অবরোধ মেনে না যান তবে আমরা শক্তি প্রয়োগ করব। পুরো মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”
মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে ইরানে পৌঁছলেন মুনির, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কি শেষ হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত?
ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরে যাতায়াত করা জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি করছে এবং তাদের আটকে রেখেছে। এই অবরোধ কড়াভাবে কার্যকর করতে সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ USA স্প্রুয়েন্স (ডিডিজি-১১১) একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজকে ফিরিয়ে দেয়। অভিযোগ, সেটি নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইতিমধ্যেই অন্তত ১০টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও জাহাজ আমেরিকার এই বাঁধন ভাঙতে পারেনি।
এই অবরোধের আওতায় রয়েছে হরমুজ প্রণালী-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যা বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ না তুললে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে এবং আলোচনার পথও খুলতে পারে।











