দীর্ঘ অস্থিরতা কাটিয়ে ‘নতুন’ বাংলাদেশে (Bangladesh) নতুন রূপে উদযাপিত হল নববর্ষ। বৈশাখী আনন্দে মেতে উঠলেন ওপার বাংলার মানুষজন। মঙ্গলবার সকাল ৯ টা নাগাদ ঢাকার চারুকলার সামনে থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। অশান্তি এড়াতে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনী। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় এগিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম এবং সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার। এবারের এই শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
নববর্ষ উপলক্ষে ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনেই মঙ্গলবার কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিলেন বিশেষ বার্তাও। তিনি বলেন, “দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল করা। কৃষকদের সচ্ছল করা। সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড করা হয়েছে।”
অন্যদিকে ছায়ানটের গানেই নতুন বছর শুরু হল ঢাকায়। বুধবার ভোর সওয়া ৬টায় রমনার বটমূলে প্রায় দু’শো শিল্পী একসুরে গাইছেন জাগো আলোক-লগনে। অজয় ভট্টাচার্যের লেখা, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরে এই গানেই সূচনা হয় ছায়ানট আয়োজিত বাংলাদেশের পয়লা বৈশাখের প্রভাতী অনুষ্ঠানে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের (Bangladesh) পরে গত বছর ১৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে ধানমণ্ডিতে ছায়ানট ভবন তছনছ করে আগুন লাগিয়েছিল। নির্বিচারে ভাঙা হয়েছিল হারমোনিয়াম-তবলা। কিন্তু পরের দিনই রাস্তায় টেবিল পেতে গান গেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন শিল্পীরা।
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’, এ-ই ছিল ছায়ানটের এ বারের আয়োজনের মূল ভাবনা। অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলির বক্তৃতায় উঠে এল ২০০১ সালের বিস্ফোরণ থেকে গত বছরের হামলার স্মৃতি। বললেন, ‘‘যে সঙ্গীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা-মিলন-বিরহ-সঙ্কটের সঙ্গী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সকল অধিকার অর্জনের অবলম্বন, সকল ধর্ম-জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে, কোনও অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সেই সঙ্গীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে নিরস্ত করতে চায়।’’










