ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল। অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে পুলিশ অবজারভার পুরুষোত্তম দাস কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, শুধু সাধারণ তল্লাশি নয়, রাতে সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ শাসকদলের। (Folta Incident)
দলের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান শুধু একটি বা দুটি জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফলতা কেন্দ্রের একাধিক এলাকায় রাতভর এই তল্লাশি চলে। পাশাপাশি মগরাহাট পূর্ব এলাকাতেও একই ধরনের অভিযানের অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে স্পষ্টভাবে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
এই প্রসঙ্গে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান বলেন, “পুলিশ অবজারভার নিরপেক্ষ ভাবে কাজ না করে বিজেপির নেতাদের কথায় রাতভর বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা, বোনেদের ভয় দেখাচ্ছেন। বাড়ির বয়স্ক লোকজনের রাতের ঘুম কাড়ছেন। তবে ২৯ এপ্রিল মানুষ এর জবাব দেবেন।”
Allegation Against BJP Leader: ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি নেতা, সাজানো ঘটনা, মত দলের
তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটের আগে তাঁদের সংগঠনকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের একাংশকে ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে কর্মীদের ঘরে ঢুকিয়ে রাখা বা ভোটের দিন প্রভাব খাটানোর একটা চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে শাসকদল। (Folta Incident)
উল্লেখ্য, রবিবার মগরাহাটের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও শোনা গিয়েছিল পুরুষোত্তম দাসের প্রসঙ্গ। তিনি বলেছিলেন, “বিজেপি প্রার্থী ৫–৬ জনকে নিয়ে পুরুষোত্তম দাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন। ভেবেছিলেন চুপি চুপি বৈঠক করবেন, কেউ জানতে পারবেন না। এখানে আকাশে, বাতাসে, মাটিতে, জেটিতে, লতায়–পাতায় আমি রয়েছি। পালাবেন কোথায়?”
অন্যদিকে, বিজেপি এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর জন্যই নিয়ম মেনে কাজ করছে। কোথাও কোনও বেআইনি কিছু হচ্ছে না। বরং প্রথম দফার ভোট যেভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তাতে তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়ে এই ধরনের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বলে দাবি বিজেপির। (Folta Incident)
সব মিলিয়ে, ফলতা ও সংলগ্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নির্বাচনী আবহে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে শাসকদলের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা দাবি- এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।










