তামান্না খুনের এক বছর পার হয়ে গিয়েছে। নদিয়ার কালিগঞ্জ উপনির্বাচনে গণনার দিন তৃণমূলের বিজয় উৎসব থেকে বোমা ছোঁড়ায় মৃত্যু হয়েছিল ছোট্ট তামান্নার। এই ঘটনায় এখনও একাধিক অভিযুক্ত অধরা। বিচারের দাবিতে আজ ফের পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin)। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত নেমে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঠিকই, কিন্তু এখনও অনেকেই অধরা। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে বাকিদের করুক সেই আশাই রাখছেন তিনি।
শনিবার তিনি কৃষ্ণনগর জেলার নতুন পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন (Sabina Yasmin)। তারপরই বেরিয়ে তমান্নার মা সাংবাদিকদের বলেন, “আসামীরা বাইরে আছে, যাদের এখনও পর্যন্ত ধরা হয়নি, তাদের ধরার জন্য আমি পুলিশ সুপারের কাছে এসে কথা বলেছি ও আর্জি জানিয়েছি। ওঁনার সঙ্গে কথা হয়েছে, উনি কথা দিয়েছে যে দ্রুত পুরো বিষয়টা নিয়ে দেখবেন। যারা গ্রেফতার হয়নি, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দিয়েছেন।”
তামান্নার মা আরও বলেন, “আগের সরকার আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার দেয়নি। নতুন সরকারের ওপর ভরসা আছে। আগামী সপ্তাহে ডিআইজি আসবেন। তাঁর সঙ্গে মেয়ের খুনের তদন্ত নিয়ে কথা হবে।”
২০২৫ সালের ২৩ জুন, কালিগঞ্জে ৯ বছরের ছোট্টো তামান্নার মৃত্যু চোখে জল এনে দিয়েছিল। গোড়া থেকেই অভিযোগ ছিল, তাঁদের পরিবার বাম সমর্থক হওয়ায় তাঁর মেয়েকে জীবন দিতে হলো। পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট হয়নি তাঁর পরিবার। তাই বারবার বিচারের আশায় ছুটে গিয়েছিলেন প্রশাসনের দরবারে।
গত একবছর ধরে মেয়ের বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন সাবিনা। তবে একটুও দমে যাননি। বরং সাহস পেয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে কালিগঞ্জ থেকে সিপিএমের প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়েছেন তিনি। জিততে পারেননি ঠিকই, তবে তৃণমূলের ভরা ডুবিতে তিনি খুশি। সেই সঙ্গে এই ব্যাপারে আশাবাদী, এবার হয়তো তাঁর মেয়েটা বিচার পাবে। অভিযুক্তদের মধ্যে যারা এখনও অধরা, তারা গ্রেফতার হবে।









