---Advertisement---
lifezone nursing home

Rajanya Halder: প্রচারের শেষদিনে আক্রান্ত রাজন্যা হালদার, তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

April 28, 2026 12:14 AM
---Advertisement---

প্রচারের শেষ পর্যায়ে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদারের উপর হামলরা ঘটনা ঘটল। রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। (Rajanya Halder)এই ঘটনায় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেশমা মণ্ডেলর স্বামী শাহেনশা মণ্ডলসহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজন্যা। তাঁর আঙুল মুচকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, এক ব্যক্তির সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য রাজন্যা শাহেনশা মণ্ডলের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎই এক যুবক তাঁর উপরে হামলা করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রাজন্যা ও তাঁর সঙ্গীরা আক্রান্ত হন। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা তাঁদের মারধর করেছে, ফোন কেড়ে নিয়েছে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। রাজন্যার স্বামী প্রান্তিক হালদারের মাথা ফেটে গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। (Rajanya Halder)

রাজন্যা হালদার এই ঘটনা নিয়ে বলেন, “আজকে আমরা যখন আমাদের হয়ে প্রচার করতে আসছি, তখন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেশমা মণ্ডল তাঁর গুন্ডাবাহিনী নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছেন। আমাদের মারধর করে, ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শ্লীলতাহানিও চেষ্টা করা হয়।” রাজন্যা হালদার স্বামীকেও মারা হয়েছে। রাজন্যার দাবি, তাঁদের প্রচার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কারণ তৃণমূল ভয় পাচ্ছে। বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষের জন্য লড়তে এসেছি, আর ওরা গুন্ডামি করে আমাদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে। পুলিশ প্রশাসনের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে কিন্তু তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা চাইছি এই ঘটনার বিচার হোক। গুন্ডামি করে ভোট জেতা যায় না, মানুষ এর জবাব দেবে। যতক্ষণ না আমরা বিচার পাচ্ছি, আমরা এখান থেকে নড়ব না। ওরা আমাদের ওপর হামলা করেছে কারণ ওরা জানে যে মানুষ নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন করছে।” (Rajanya Halder)

ঘটনার প্রতিবাদে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) রাজন্যার পাশে দাঁড়িয়েছে। ISF-এর পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে, “নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন দলীয় বা নির্দল। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে এভাবে আক্রমণ করা ন্যক্কারজনক। সোনারপুরের মাটি এমন ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেসের এই ধরনের ঘটনা গোটা এলাকাকে কলুষিত করছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলরের অভিযোগ, রাজন্যা ও তাঁর স্বামী বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। সেই ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধেও সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

TMC কাউন্সিলর রেশমা মণ্ডল জানিয়েছেন, “বহিরাগতদের এনে এলাকায় উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের ছেলেদের উপর তো চড়াও হয়েছেই, এমনকি স্থানীয় মহিলাদের উপরও বহিরাগতরা হামলা করেছে। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমরা আইনের উপর ভরসা রাখি, পুলিশ তদন্ত করবে।”

রেশমা আরও বলেন, “রাজন্যা হালদারকে মারধর করা হয়েছে কি না, সেটা ওরাই ভালো বলতে পারবে। রাজনীতি করতে করতে মিথ্যা বলায় ওরা পারদর্শী। আমার নামে বলা হচ্ছে যে আমাকে পাওয়া যায় না—এটাও মিথ্যা। রবিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অফিসে বসি। ভোটের সময় সময়সূচি একটু এদিক-ওদিক হলেও জরুরি সই-স্বাক্ষরের কাজ দুপুর বা সন্ধেতেও করে দিই। অফিস প্রতিদিন খোলা থাকে।”

পুলিশ এখনও পর্যন্ত উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রচারের শেষ লগ্নে এই সংঘর্ষ ঘিরে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। (Rajanya Halder)

আরও পড়ুন : West Bengal Election: প্রচারের শেষ দিনে আত্মবিশ্বাসী রাজন্যা, তোপ দাগলেন বিরোধীদের দিকে


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment