আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামী ১৫ মে এর আগেই ভারতেও পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির ওপর ক্রমেই আর্থিক চাপ বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর এই ঘাটতি মেটাতেই এবার দেশীয় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করতে চলেছে সরকার, এমনটাই দাবি রিপোর্টে।
সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে সেখানে পরিবহণ এবং সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। (Fuel Price Hike)
এই পরিস্থিতিতে ভারতে এখনও পর্যন্ত পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে খুব বড়সড় পরিবর্তন আসেনি। সরকার এবং তেল সংস্থাগুলি মিলেই অতিরিক্ত খরচের বড় অংশ বহন করছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ২৪ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকির চাপ নিচ্ছে সরকার। শিল্প মহলের হিসেব অনুযায়ী, ডিজেলের ক্ষেত্রেও সেই চাপ অনেকটাই বেশি।
তবে শীঘ্রই পরিস্থিতি ঠিক না হলে দাম বাড়াতেই হবে। আর যদি দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম বড়সড় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। (Fuel Price Hike)
বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশে জ্বালানি রেশনিং চালু হয়েছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় সরকারি দফতরে কাজের দিন কমানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বহু বছর পর জ্বালানির দামে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। তবে ভারত এখনও পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদি জ্বালানি সঙ্কট বা রেশনিংয়ের পরিস্থিতি এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চলাকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল। দেশে এলপিজি উৎপাদন দৈনিক ৩৬ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার টন করা হয়েছিল। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর শুল্কও কমানো হয়েছিল। (Fuel Price Hike)
এছাড়াও গত এক দশকে দেশের জ্বালানি পরিকাঠামো অনেক শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় এলপিজি টার্মিনালের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎস ২৭টি দেশ থেকে বেড়ে ৪০টি দেশে পৌঁছেছে। ইথানল মিশ্রণের হার ১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত তেল ভাণ্ডারও শক্তিশালী করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এখন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তবে যদি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হয় তবে তা কবে এবং কতটা দাম বাড়ানো হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো, একদিকে তেল সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কমানো এবং অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের উপর বেশি না পড়ে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখা। (Fuel Price Hike)











