ই-পেপার রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

১৫০০ টাকা পেনশন নিতে শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে ৯ কিলোমিটার হেঁটে ব্যাঙ্কে বৌমা, ভাইরাল ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র ছবি

Viral Video
---Advertisement---

সরকার বলছে দেশ নাকি ‘ডিজিটাল’ হচ্ছে। ঘরে ঘরে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও শোনা যায় প্রতিনিয়তই। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা যে এখনও অনেকটাই আলাদা, তারই উদাহরণ ছত্তিশগড়ের একটি ভাইরাল ভিডিয়ো। মাত্র ১৫০০ টাকার পেনশন তোলার জন্য ৯০ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার পথ হেঁটে ব্যাঙ্কে নিয়ে যেতে হলো এক মহিলাকে। সেই ঘটনার ভিডিয়ো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, আর তা ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। (Viral Video)

ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার মেইনপাট এলাকার। জঙ্গল এবং পাহাড়ঘেরা দুর্গম অঞ্চল। যাতায়াত ব্যবস্থার ছবিটাও অত্যন্ত শোচনীয়। কাজেই সেখানকার বাসিন্দা সুখমনিয়া বাই পেনশন তুলতে তাঁর প্রায় ৯০ বছর বয়সি শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে প্রতি মাসেই রওনা দেন ব্যাঙ্কের উদ্দেশ্যে। কারণ, ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে যিনি উপভোক্তা পেনশনের টাকা তুলতে হলে তাঁকেই সশরীরে ব্যাঙ্কে হাজির হতে হবে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, চড়া রোদে জঙ্গল পেরিয়ে সুখমনিয়া বাই হাঁটছেন, আর তাঁর পিঠে কাপড় দিয়ে বাঁধা রয়েছেন বৃদ্ধা শাশুড়ি। পথে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এই দৃশ্য দেখে তা ক্যামেরাবন্দী করেন। ওই ব্যক্তি সুখমনিয়াকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি এত বয়স্ক মহিলাকে এভাবে নিয়ে যাচ্ছেন। উত্তরে সুখমনিয়া বাই জানান, পেনশন তুলতে গেলে আঙুলের ছাপ বা পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বৃদ্ধাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই এই পথ বেছেছেন বৌমা।

স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বেশিরভাগ গ্রামে এখনও পাকা রাস্তা নেই। যানবাহনের সুযোগও খুব সীমিত। ফলে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষদের ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল কিংবা সরকারি অফিসে পৌঁছতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গ্রামের মানুষদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মের কারণে প্রায়শই প্রবীণদের এই ধরনের শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। (Viral Video)

Jitu Munda Anil Ambani: কবর থেকে দেহ তুলতে হচ্ছে জিতু মুন্ডাদের, ঋণ শোধ না করে ছাড় অনিল আম্বানিদের, প্রশ্ন কিন্তু রয়েই গেল

মাস গেলে মাত্র ১৫০০ টাকা পেনশন পান সুখমনিয়ার শাশুড়ি। কখনও আবার কয়েক মাসের টাকা একসঙ্গে দেওয়া হয়। সুখমনিয়া বাই জানিয়েছেন, আগে স্থানীয় সরকারি অফিস বা গ্রামের কাছাকাছি দফতর থেকেই পেনশনের টাকা পাওয়ার ছিল। কিন্তু এখন ব্যাঙ্কে গিয়ে বায়োমেট্রিক যাচাই করানো বাধ্যতামূলক হওয়ায় তাঁদের মতো গরিব পরিবারকে বারবার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যখন দেশজুড়ে ডিজিটাল পরিষেবা ও ‘ডোরস্টেপ সার্ভিস’-এর কথা বলা হচ্ছে, তখন কেন প্রত্যন্ত এলাকার প্রবীণ মানুষদের এখনও সামান্য পেনশনের জন্য এভাবে কষ্ট করতে হচ্ছে? কেউ কেউ আবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, এমন এলাকায় মোবাইল ব্যাঙ্কিং বা বাড়িতে গিয়ে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।

এই ঘটনা আবারও দেশের বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তব ছবিটাকে সামনে এনে দিয়েছে। যেখানে সামান্য সরকারি সাহায্য পেতেও এখনও মানুষকে হেঁটেই পেরোতে হয় দুর্গম পথ, সেখানে ‘ডিজিটাল ভারত’ গড়ার স্বপ্ন যে এখনও বহুদূর তা বলাই বাহুল্য। (Viral Video)


Follow Hindustan News Point Channel on WhatsApp

Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp Channel

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now