বিহারের শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়জল খান ওরফে ‘খান স্যর’ (Khan Sir)-কে গ্রেফতার করল পুলিশ। খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনে মামলায় খান স্যরকে গ্রেফতার করা হয়। পাটনার কদমকুয়াঁ থানার অন্তর্গত মুসাল্লাহপুর এলাকায় অবস্থিত তাঁর কোচিং সেন্টার খান গ্লোবাল স্টাডিজ (KGS)-এর সামনে গত ২ জুন রাতে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই মামলা। ( Khan Sir)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯ ধারায় (খুনের চেষ্টা) এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন খান স্যর, তাঁর দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগী। ( Khan Sir)
ঘটনার সূত্রপাত ২ জুন রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ। অভিযোগ, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল কেজিএস-এর সামনে বিক্ষোভ দেখায়, ভাঙচুর চালায় এবং ইট-পাটকেল ছোড়ে। সেই সময় খান স্যর দাবি করেছিলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের বাইরে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলিও চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সমাজবিরোধী আগে থেকেই তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিল এবং কোচিং সেন্টার উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ( Khan Sir)
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে খান স্যরের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বী জ্ঞান বিন্দু কোচিং ইনস্টিটিউট এর পরিচালক রৌশন আনন্দ সহ তিন জনকে গ্রেফতার করে। তবে তদন্তে নতুন মোড় আসে যখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে গুলি চালানোর দৃশ্য সামনে আসে। ( Khan Sir)
কদমকুয়াঁ থানার সাব-ইন্সপেক্টর অনিল কুমারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ জুন ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ কেজিএস-এর সামনে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভিডিওতে দেখা দুই ব্যক্তিকে কেজিএস-এর নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি রাইফেল থেকে দু’বার গুলি চালিয়েছিলেন।
এরপর গ্রেফতার করা হয় উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী জেলার বাসিন্দা ৩৮ বছরের প্রদীপ কুমার এবং কাসগঞ্জ জেলার ৩৪ বছরের তালেবর সিংকে। জেরায় তাঁরা দাবি করেন, ২ জুন রাতের উত্তেজনার সময় একদল বিক্ষোভকারী কোচিং সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে এক নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে, গেটের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং স্লোগান দিতে থাকে। সেই সময় খান স্যর ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী নাকি তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “কী দেখছ? ভিড়ের দিকে গুলি চালাও, যা হবে আমি সামলে নেব।” এরপর তাঁরা দু’জনেই দু’টি করে গুলি চালান বলে তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। ( Khan Sir)
পুলিশ জানিয়েছে, খান স্যর স্বীকার করেছেন যে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী। তাঁদের ব্যবহৃত রাইফেলগুলি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং নয়ডাভিত্তিক একটি এপিএস সিকিউরিটি এজেন্সির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল।
এই নতুন এফআইআর দায়েরের মাত্র একদিন আগেই পুলিশ জানিয়েছিল যে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তদন্তে গুলিচালনার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। ফলে নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ান এবং ভাইরাল ভিডিও সামনে আসার পর গোটা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন ফৈজল খান ও তাঁর সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে বিহার পুলিশ। ( Khan Sir)
‘খান স্যারের কোচিং’-এর বাইরে চলল গুলি! নিরাপত্তা চাইছেন শিক্ষক












