গড়িয়ার মহামায়াতলার একটি আবাসনকে কেন্দ্র করে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, আবাসনের একটি ফ্ল্যাট তাঁর নামে লিখে দেওয়ার দাবি নিয়ে শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ সেখানে পৌঁছন শান্তি দাস নামে ওই পুলিশ আধিকারিক। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সহযোগী এবং নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় উত্তেজনা, যা পরে মারধর এবং থানার ভিতরে নির্যাতনের অভিযোগে আরও গুরুতর মোড় নেয়। (Garia Housing Complex)
আবাসনের কর্মীদের দাবি, শান্তি দাস আবাসনে প্রবেশ করার পর তাঁকে সেখানে আসার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সেই সময় আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মী অর্ক জানা তাঁর কাছে জানতে চান কেন তিনি সেখানে এসেছেন। অভিযোগ, এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টে অর্কের উপর চড়াও হন ওই পুলিশ আধিকারিক। অর্কের অভিযোগ, শান্তি দাস নিজে তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর সঙ্গে আসা কয়েকজন ব্যক্তিও হামলায় যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে তিনি শান্তি দাসের সহকারী বলেও দাবি করেছেন। (Garia Housing Complex)
অর্ক জানার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাঁকে এবং অপর কর্মী অভিজিৎ প্রধানকে নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু থানায় পৌঁছনোর পরও তাঁদের উপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ। অর্কের দাবি, থানার মধ্যেই তাঁকে রুলার দিয়ে আঘাত করা হয়, ঘুসি, লাথি ও চড় মারা হয়। এমনকি কয়েকজন পুলিশ কর্মী ওই আধিকারিককে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাঁদের কথায় কর্ণপাত করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
আক্রান্ত অর্ক জানান, “আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম কেন এসেছেন। তারপরই আমাকে মারতে শুরু করেন। থানায় নিয়ে যাওয়ার পরও মারধর চলতে থাকে। এতটাই মারধর করা হয়েছে যে আমার মুখ ফুলে গিয়েছে। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি শান্তি দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে এবং সমস্ত নথি পুলিশের হাতে জমা দেওয়া হয়েছে। (Garia Housing Complex)
সূত্রের খবর, ঘটনার সময় নরেন্দ্রপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রসেনজিৎ বিষ্ণু থানায় উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার পর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি আক্রান্ত দুই কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। (Garia Housing Complex)
আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর সন্দীপ প্রামাণিকও ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।যদিও গোটা অভিযোগ প্রসঙ্গে শান্তি দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। (Garia Housing Complex)
যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি, গ্রেফতার ৬










