সুখেন্দু শেখর রায়ের রাজ্যসভার সদস্যপদ ও দলীয় পদ থেকে ইস্তফার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। সেই আবহেই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (Ritabrata Banerjee) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সুখেন্দু শেখর রায়ের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করলেও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ‘১০০ শতাংশ একমত’ বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) । একইসঙ্গে নাম না করে ডেরেক ও ব্রায়েনকে ‘কুইজ মাস্টার’ বলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংবাদমাধ্যম মারফত তিনি জেনেছেন যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও একাধিকবারের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় রাজ্যসভার সদস্যপদ এবং দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
(Ritabrata Banerjee) ঋতব্রতের বক্তব্য, “সুখেন্দু দা যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আমরা একমত। তিনি যা মনে করেছেন, সেই কারণেই ইস্তফা দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেক মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে (Ritabrata Banerjee) তিনি ‘ইচ্ছার ঐক্য’-র কথা তুলে ধরে বলেন, বহু মানুষের ইচ্ছা একত্রিত হলে তবেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। আধিপত্যবাদী মানসিকতা এবং মত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে সেই ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর দাবি, বিধানসভার সদস্যদের যে রাজনৈতিক অবস্থান ও ইচ্ছা ছিল, তার প্রতিধ্বনি এখন দিল্লিতেও শোনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশবিরোধী কাজকর্মকে প্রশ্রয় দিয়েছে তৃণমূল, জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক তাপস রায়
সুখেন্দু শেখর রায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে ঋতব্রত আরও বলেন, সংসদে বসার আসন নির্ধারণ নিয়ে তিনিও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর কথায়, “গত ১৫ মাস আমি লাস্ট বেঞ্চে কাটিয়েছি। অনেকেই আমার থেকে বয়সে ছোট, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও কম। সংসদে পারফরম্যান্সই আসল মাপকাঠি। তাই সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষকে লাস্ট বেঞ্চে বসানো হয়েছে দেখে খারাপ লাগত।”
এরপরই তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। কটাক্ষের সুরে বলেন, “রাজনীতির আঙিনায় ভাঁড়ামোর কোনও জায়গা নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগঠনে সঙ আছে, গঠন নেই। কুইজ মাস্টার (ডেরেক ও ব্রায়েন) ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব সামলাচ্ছেন, নিজের কোম্পানির অ্যাসোসিয়েটদের নিয়ে কুইজ করছেন—সেগুলো ঠিক আছে। কিন্তু সেই ভাঁড়ামো যদি সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে সমস্যা হয়।”
(Ritabrata Banerjee) ঋতব্রতের দাবি, সুখেন্দু শেখর রায় এক ইঞ্চিও বাড়িয়ে কথা বলেননি। বরং তিনি যে সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, সেই একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তিনিও হয়েছেন। তাঁর মতে, “আজ সুখেন্দু দা যা বলেছেন, কাল আরও অনেকে বলবেন।”
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও এদিন তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। (Ritabrata Banerjee) তিনি বলেন, “উটপাখি যদি মনে করে বালিতে মুখ গুঁজে থাকলে প্রলয় বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। ইতিহাস বারবার শিখিয়েছে, বাস্তবতাকে এড়িয়ে গেলে সংকট থেমে থাকে না।”
ভবিষ্যতে আরও নেতার মুখ খুলতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়, “ধৈর্য ধরুন। সময় যত এগোবে, আমাদের সংখ্যা বাড়বে। এক ঘণ্টা পরে কী হবে, দু’ঘণ্টা পরে কী হবে, তা কেউ জানে না। তাই অপেক্ষা করুন।”
সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে যখন তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে, তখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে। বিশেষত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ এবং আরও নেতার মুখ খোলার ইঙ্গিত রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরও পড়ুন: ইরান সফরে নিষেধাজ্ঞা, ভারতীয়দের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ সরকারের









1 thought on “সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফা ঘিরে বিস্ফোরক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, নাম না করে ডেরেককে কটাক্ষ”