একে একে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ছেন তাঁরই বিশ্বস্ত দীর্ঘকালের ছায়াসঙ্গীরা। এবার দলে আরও ভাঙন। রাজ্যের পিএসি চেয়ারম্যান (PAC Chairman) পদে বসতে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম(Firhad Hakim)।
বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে। কারণ, এই পদটি বিরোধী শিবিরকে দেওয়াই রীতি। এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বিরোধী শিবিরের ‘পছন্দের’ লোককেই বসিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর তাই এবার প্রতিশোধ নিতেই বিজেপি সরকারও একই কৌশলেই ফিরহাদ হাকিমকে পিএসির চেয়ারম্যান পদে বসানোর পরিকল্পনা করছে (Firhad Hakim)।
কী এই পিএসি? এর পুরো অর্থ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)। বিধানসভার এই কমিটি রাজ্য সরকারের খরচের উপর নজর রাখে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাধারণত কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় বিরোধী বিধায়কদের। উদ্দেশ্য একটাই, এমন একজনকে বেছে নেওয়া হয় যিনি বিরোধী দলের গলার কাঁটা হয়ে থাকবেন। এবার সেই চালেই ফিরহাদ হাকিমকে পিএসির চেয়ারম্যান পদে বসানোর পরিকল্পনা চলছে।
পালাবদলের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। এতদিন যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাখতেন, তাঁরাই এখন নানারকম দোষারোপ করে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন। ফলে পরিষদীয় দলের রাশ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই নামে একটি অচেনা দলের সঙ্গী হয়েছেন।
এদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। ফলে মমতার হাতে আর কার্যত কিছুই নেই। মুখে কিছু না বললেও দীর্ঘদিন ধরেই আচরণে ফিরহাদ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আর ‘দিদি’র সঙ্গে নেই। বৃহস্পতিবার জল্পনা অন্য মাত্রা পেয়েছে। কারণ, রাজ্যপালের ভাষণের সময় দেখা গেল ফিরহাদের আসন নির্দিষ্ট হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খানদের সঙ্গে একই বেঞ্চে। অর্থাৎ তিনি যে ঋত-পন্থী তৃণমূলে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরপরই শোনা যাচ্ছে, পুরষ্কার হিসাবে ফিরহাদকেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান করা হতে পারে।










