গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানে। (Prisoners Escape) আদালতে বিচারাধীন ১৪ জন বন্দি পুলিশ ভ্যানের নিরাপত্তা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। রাওয়ালপিন্ডির সিহালা এলাকায় ঘটে যাওয়া (Prisoners Escape) এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে আদিয়ালা জেলে ওই বন্দিদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেখানেই বর্তমানে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার কাহুটা থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মোট ১৪ জন বিচারাধীন বন্দিকে। বন্দিদের নিয়ে পুলিশ ভ্যানটি যখন রাওয়ালপিন্ডির সিহালা এলাকায় পৌঁছয়, তখনই ঘটে যায় নাটকীয় এই ঘটনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, (Prisoners Escape) চলন্ত ভ্যানের ভিতরে প্রথমে বন্দিদের মধ্যে তীব্র বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেই সুযোগেই বন্দিরা একজোট হয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের কাবু করে ফেলে এবং পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ইসলামাবাদ জেলার সিহালা থানার অধীন এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর সামনে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। রাওয়ালপিন্ডির সিটি পুলিশ অফিসার (CPO) খালিদ হামদানি অবিলম্বে ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত তল্লাশি অভিযান শুরু করারও নির্দেশ দেন।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ১৪ জন বন্দির মধ্যে ইতিমধ্যেই চারজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। (Prisoners Escape) তবে বাকি ১০ জন এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের দাবি, পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেকেই বিভিন্ন মামলায় বিচারাধীন অভিযুক্ত।
ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনও পুলিশকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে বন্দি পলায়নের ঘটনা নতুন নয়। চলতি মাসের শুরুতেই রাওয়ালপিন্ডির বেনজির ভুট্টো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া এক বিচারাধীন বন্দি পালিয়ে যায়। সেই ঘটনায় দুই পুলিশকর্মীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
(Prisoners Escape) এরও আগে, গত বছর করাচির জেলা মালির কারাগার থেকে ২০০-রও বেশি বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের আইনমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার সেই ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে “সবচেয়ে বড় জেল ভাঙার ঘটনাগুলির অন্যতম” বলে বর্ণনা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ প্রাদেশিক কারা বিভাগের প্রধানকে অপসারণ করেন এবং ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ প্রিজনস-সহ একাধিক আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
নতুন করে ১৪ জন বিচারাধীন বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের কারাবিভাগ ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসন।
গরম বাড়তেই বেহাল ইউরোপ, মৃত ১৩০০ ছাড়িয়েছে, কেন বাড়ছে তাপমাত্রা?











