বিশ্বকাপ মানেই বড় মঞ্চ, আর সেই মঞ্চেই নিজের শিল্পীসুলভ ফুটবল দিয়ে গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করছেন ফ্রান্সের মিডফিল্ড জাদুকর (Michael Olise) মাইকেল অলিসে। গোলের আলোয় হয়তো রয়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, দেম্বেলে কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফ্রান্স দলের আসল সৃজনশীল শক্তি যে অলিসে, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল সুইডেনের বিরুদ্ধে শেষ ৩২-এর ম্যাচে। সুইডেনের বিরুদ্ধে তিনটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নজির গড়ার পথে (Michael Olise) মাইকেল অলিসে; মেসি-মারাদোনার রেকর্ডও এখন তাঁর হাতের নাগালে।
বুধবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে যায় ফ্রান্স। সেই ম্যাচে তিনটি গোলের প্রতিটিতেই অ্যাসিস্ট করেন অলিসে। এমবাপে জোড়া গোল করেন, একটি গোল আসে ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। তবে ম্যাচের আসল পরিচালক ছিলেন ২৪ বছর বয়সি ফরাসি এই প্লেমেকার।
🚨🇫🇷 𝐎𝐅𝐅𝐈𝐂𝐈𝐀𝐋 | Michael Olise (24) is the first player in 32 YEARS to provide five assists at a single World Cup tournament. 🥇✅ pic.twitter.com/yiSrTx81hY
— EuroFoot (@eurofootcom) June 30, 2026
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁ দীর্ঘদিন রক্ষণাত্মক কৌশলের উপর ভরসা করলেও, এবার তিনি দলের আক্রমণভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী মাইকেল অলিসে। নম্বর ১০ পজিশনে খেলতে নেমে তিনি এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে ফেলেছেন, যা একবিংশ শতাব্দীতে কোনও একক বিশ্বকাপে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ড।
আরও পড়ুন: ঐতিহ্য আর উত্তেজনার মেলবন্ধন: জমজমাট ১৩৫তম ডুরান্ডের ২৪ দলের লড়াইয়ের সূচি ঘোষণা
পেলে, মারাদোনা ও মেসির পাশে অলিসে
একটি বিশ্বকাপে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের তালিকায় বর্তমানে পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন (Michael Olise) অলিসে। এই তালিকায় তাঁর পাশে রয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা। শীর্ষে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে, যিনি ১৯৭০ বিশ্বকাপে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
একই সঙ্গে, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক কেরিয়ার অ্যাসিস্টের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে অলিসেকে। বর্তমানে লিওনেল মেসি এবং দিয়েগো মারাদোনার আটটি করে বিশ্বকাপ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করতে আর মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট প্রয়োজন তাঁর।
কে এই (Michael Olise) মাইকেল অলিসে?
ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী মাইকেল অলিসে ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার সিদ্ধান্ত নেন। যুব পর্যায়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার পর অলিম্পিকসে নজর কাড়েন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে ফ্রান্সের সিনিয়র দলে নিজের জায়গা পাকা করেন।
ক্লাব ফুটবলেও গত মরসুমে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। ২০২৪ সালে ক্রিস্টাল প্যালেস ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর প্রথম পূর্ণ মরসুমেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২ গোল করেন অলিসে। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করে বায়ার্ন জেতে ঘরোয়া ডাবল এবং পৌঁছে যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে। ক্লাব কেরিয়ারে তিনি (Michael Olise) ৩০৯টি ম্যাচে ৭৩টা গোল এবং ৯৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন।
বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর সৃজনশীলতা এখন ফ্রান্সকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।
The post denied Michael Olise of a worldie 🤯 pic.twitter.com/xaqcHKpb3w
— B/R Football (@brfootball) June 30, 2026
সুইডেন ম্যাচে তাঁর অসাধারণ বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে না এলে হয়তো বিশ্বকাপের প্রথম গোলও পেয়ে যেতেন অলিসে। ম্যাচ শেষে এমবাপেও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, “এই ধরনের দক্ষতা দেখতেই দর্শকরা মাঠে আসে।”
একসময় ফরাসি কিংবদন্তি প্যাট্রিক ভিয়েরা মাইকেল অলিসেকে “ভবিষ্যতের ব্যালন ডি’অর জয়ী” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে, সেই ভবিষ্যৎ হয়তো আর খুব দূরে নয়।
আরও পড়ুন: অলিম্পিক ক্রিকেটে টিকিট পাকা ভারতের, কিন্তু চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কেন?











