রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

কবে বিপত্তারিণী পুজো? জেনে নিন দিনক্ষণ ও ব্রতের সমস্ত নিয়ম

Bipattarini puja
---Advertisement---

প্রতি বছর আষাঢ় মাসে হিন্দু ধর্মে পালিত হয় বিপত্তারিণী পুজো। ঘরে ঘরে মা বোনেরা বাড়ির সকলের মঙ্গলকামনায় এই ব্রত পালন করে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, মা দুর্গার ১০৮টি রূপের অন্যতম মা বিপত্তারিণীর আরাধনা করলে জীবনের নানা বিপদ, অশান্তি ও সংকট থেকে মুক্তি মেলে। পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং অমঙ্গল দূর করার আশায় বহু ভক্ত এই ব্রত পালন করেন। তবে জানেন কি এই পুজোয় ১৩ সংখ্যার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। তাই পূজার অধিকাংশ উপকরণই ১৩ টি করে নিবেদন করার প্রচলন রয়েছে। এই বছরে কবে পালিত হবে এই ব্রত? কী কী নিয়ম মানবেন দেখে নিন। (Bipattarini puja)

২০২৬ সালে কবে বিপত্তারিণী পুজো?

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিপত্তারিণী ব্রত পালিত হবে ১৮ জুলাই (শনিবার) এবং ২১ জুলাই (মঙ্গলবার)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এই দুই দিন যথাক্রমে ১ শ্রাবণ এবং ৪ শ্রাবণ।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রথযাত্রা ও উল্টো রথের মধ্যবর্তী সময়ের শনিবার এবং মঙ্গলবার বিপত্তারিণী ব্রত পালনের জন্য সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই এই দুই দিন ভক্তরা নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর আরাধনা করেন।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিপত্তারিণী ব্রত?

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা বিপত্তারিণী হলেন দেবী দুর্গার এমন এক শক্তিরূপ, যিনি ভক্তদের জীবনের বিভিন্ন বিপদ, অমঙ্গল ও সংকট থেকে রক্ষা করেন। তাই পারিবারিক কল্যাণ, সুস্বাস্থ্য এবং শান্তির কামনায় বহু মানুষ এই ব্রত পালন করেন। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ১৩টি গিট দেওয়া লাল সুতো হাতে বাঁধা এবং ১৩ সংখ্যাকে কেন্দ্র করে নৈবেদ্য নিবেদন। (Bipattarini puja)

পুজোর জন্য কী কী উপকরণ লাগে?

বিপত্তারিণী পুজোয় কয়েকটি নির্দিষ্ট সামগ্রী অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে— ঘট, আমের পল্লব, শিষ-সহ ডাব, নৈবেদ্যের বাটি

এ ছাড়াও ১৩ সংখ্যার নিয়ম মেনে রাখতে হয়—

  • ১৩টি গিট দেওয়া লাল সুতো
  • প্রতিটি সুতোর সঙ্গে ১৩টি দূর্বা
  • ১৩ রকমের ফল
  • ১৩ রকমের ফুল
  • ১৩টি পান
  • ১৩টি সুপারি

বিশ্বাস করা হয়, এই নিয়ম মেনে পুজো করলে মা বিপত্তারিণী সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তদের উপর আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। পুজো শেষে হাতে বাঁধা ১৩ গিটের লাল সুতো ১৩ দিন পর্যন্ত রাখারও প্রচলন রয়েছে। অনেকেই এটি সবসময় পরে থাকেন।

কীভাবে পালন করবেন বিপত্তারিণী ব্রত?

ব্রত পালনের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়। ব্রতের আগের দিন নিরামিষ বা সাত্ত্বিক খাবার খাওয়া উচিত।পুজোর দিন উপবাস থেকে ভক্তিভরে দেবীর পুজো করতে হয়। পুজো শেষে দেবীকে ১৩টি লুচি এবং ১৩ রকমের ফল প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হয়। দেবীর চরণে অর্পিত ১৩ গিট দেওয়া লাল সুতো পরে হাতে বাঁধতে হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মহিলারা বাম হাতে এবং পুরুষরা ডান হাতে এই সুতো ধারণ করেন।

এই কাঠ ছাড়া তৈরি হয় না জগন্নাথের রথ, জানুন পুরীর রথযাত্রার অজানা গল্প

পুজোর দিন যেসব আচারবিধি মেনে চলবেন

বিপত্তারিণী ব্রতের সঙ্গে কিছু বিশেষ আচারও জড়িয়ে রয়েছে।

  • সকালে স্নান করে পরিষ্কার ও পবিত্র পোশাক পরে পূজায় বসতে হয়।
  • পুজোর স্থান অবশ্যই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।পুজোর সময় অযথা বেশি কথা না বলাই ভালো।
  • এই দিনে কাউকে চিনি দান করা উচিত নয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে শুক্র ও চন্দ্র ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে।
  • পুজোর দিনে কাউকে টাকা ধার দেওয়াও অনুচিত বলে মনে করা হয়।
  • সর্বোপরি, সম্পূর্ণ ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর আরাধনা করলে মিলবে সুফল। (Bipattarini puja)

Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now