দিল্লিতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলন তৃতীয় দিনেও জারি থাকল। যন্তর মন্তরে দিনভর ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা এবং এর আগের সংঘর্ষের আবহের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
CJP Protest at Delhi: এক নজরে তৃতীয় দিনের আন্দোলন
দিনের শুরুতে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর পাওয়া যায়, গত ২০ জুলাই পুলিশের অভিযানে গুরুতর জখম হওয়া ২১ বছরের এক তরুণীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে সরানো হয়েছে। তিনি এখন নিজে শ্বাস নিতে পারছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।
জে.পি. নাড্ডার প্রস্তাব নাকচ, চার দফা দাবি
এদিকে, আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব এলেও CJP তা নাকচ করে দিয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার তরফে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হলেও আন্দোলনকারীদের দাবি, কোনও বন্ধ ঘরে বৈঠক নয়, বরং সবার সামনে ‘জনতা দরবার’-এর মাধ্যমে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবিতেও তারা অনড়। তাঁদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে তাঁদের দাবিগুলো না মানা হলে আগামী দিনেও অনির্দিষ্টকালের জন্য এই আন্দোলন চলতে থাকবে। এদিন তাঁরা তিন দফার দাবি তুলে ধরেছেন। সেগুলি হলো:
১. ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
২. আত্মহত্যায় মৃত শিশুদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ
৩. শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নয়
৪. নৃশংসতা বা অত্যাচারের সাথে জড়িত সকল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
IMPORTANT – 22nd July at 6:15 PM
— Cockroach is Back (@Cockroachisback) July 22, 2026
CJP will continue its protests until the Government accepts its demands for:
1. Dharmendra Pradhan’s resignation
2. Rs 1 crore compensation for families of children who died by suicide
3. NO PROSECUTION OF PEACEFUL PROTESTERS
4. All police…
জে.পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংকে চিঠি সোনম ওয়াংচুকের
এদিন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংকে চিঠি লিখেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ছাত্র-যুবকের বিরুদ্ধে যেন প্রতিহিংসামূলক বা শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। সরকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট লিখিত আশ্বাস পেলেই তিনি অনশন ভাঙবেন। অন্যথায় তাঁর অনশন অনির্দিষ্টকাল চলবে। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আন্দোলন দমাতে ভবিষ্যতে আর অতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগ করা হবে না। (CJP Protest at Delhi)
চিঠিতে ওয়াংচুক আরও জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫ জন সাংসদ তাঁকে অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অনেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন, আবার অনেকেই দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু যেসব ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে, তাঁদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তিনি অনশন ভাঙতে পারবেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করুন: মল্লিকার্জুন খাড়গে
অন্যদিকে, সংসদের ভিতরেও এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেছেন, NEET প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করুন।
VIDEO | Parliament Monsoon Session: "We want a discussion on the NEET issue under Rule 267. The Education Minister should resign," says Leader of the Opposition in the Rajya Sabha Mallikarjun Kharge.
— Press Trust of India (@PTI_News) July 22, 2026
(Source: Third Party)
(Full video available on PTI Videos -… pic.twitter.com/x0xX34seKL
সুর চড়ালেন রাহুল গান্ধী
একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয়, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। রাহুলের অভিযোগ, এতবার প্রশ্নফাঁস হলেও এখনও পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির নজির নেই, ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। (CJP Protest at Delhi)
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকার যদি দ্রুত দাবি না মেনে আলোচনায় না বসে, তাহলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে। ফলে রাজধানীতে শিক্ষা ইস্যুতে তৈরি হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশের রাজনীতি এবং সংসদ— দুই ক্ষেত্রেই বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামীতে সরকার এই বিষয়ে নমনীয় হয় কিনা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্ত দাবি মেনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতি মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয় কিনা এখন সেই দিকেই নজর দেশবাসীর।











