নয়ডার সেক্টর ৮২-র বাড়ি। সেখানেই ৬ সেপ্টেম্বর অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যসচিব রাকেশ মেহতার। ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি লিখিত নোটও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। (Rakesh Mehta Death)
রাকেশ মেহতার মৃত্যুতে প্রশাসনিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন দিল্লি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ১৯৭৫ ব্যাচের এই IAS আধিকারিক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের আমলে দিল্লির প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন তিনি।
কী ভাবে দেহ উদ্ধার হয়
৬ সেপ্টেম্বর নয়ডার সেক্টর ৮২-র বাড়িতে রাকেশ মেহতার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির এক ঘর থেকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি নোটও উদ্ধার হয়। ওই নোটে তাঁর মানসিক ও শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে নয়ডা পুলিশ। (Rakesh Mehta Death)
তিন বছরের বেশি সময় মুখ্যসচিব
২০০৭ সালে দিল্লির মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নেন রাকেশ মেহতা। তিন বছরেরও বেশি সময় ওই পদে ছিলেন তিনি। তাঁর কার্যকালের শেষ দিকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমস। সেই সময় রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব তাঁর প্রশাসনের উপর ছিল। দিল্লির পরিবহণ, বিদ্যুৎ এবং নাগরিক পরিকাঠামোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীরা। দিল্লি সরকারের বিভিন্ন দফতরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের দায়িত্বেও
দিল্লি সরকারের পাশাপাশি পুর প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন মেহতা। তিনি দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (MCD) কমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রশাসনিক মহলে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কাজের দক্ষতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন সহকর্মীরা। ২০১০ সালের নভেম্বরে দিল্লির মুখ্যসচিবের পদ থেকে অবসর নেন মেহতা। তার পরেও প্রশাসনিক মহলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অনেকের। সোমবার লোধি রোড শ্মশানে রাকেশ মেহতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। (Rakesh Mehta Death)
আরও পড়ুন :- সত্য নিকেতন ধসের পর শোকের মাঝেও বড় সিদ্ধান্ত, অর্পিতের কর্নিয়া দান












