বন্ধুদের আড্ডায় বসে হঠাৎ প্ল্যান হলো উইকএন্ডে দিঘা যাওয়ার। অথবা রাতে খাওয়ার টেবিলে আলোচনা হলো, “অনেকদিন ভালো বিরিয়ানি খাওয়া হয়নি, তাই না?” পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুলতেই দেখলেন— স্ক্রিন জুড়ে দিঘার হোটেলের বিজ্ঞাপন বা নামীদামি রেস্তোরাঁর বিরিয়ানির লোভনীয় অফার! (Android voice tracking) এমন ঘটনা আমাদের সবার সঙ্গেই প্রায়ই ঘটে। আর তখনই আমাদের মনে সন্দেহ জাগে, পকেটে থাকা স্মার্টফোনটা কি আমাদের সব কথা লুকিয়ে শুনছে? ফোন কি আড়ি পাতছে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে? (Android voice tracking)
সত্যিটা ঠিক কী?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ফোন সারাক্ষণ আপনার কথা রেকর্ড করে না। গুগল, অ্যাপল বা মেটা (ফেসবুক)-এর মতো বড় কোম্পানিগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে যে, তারা বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কথোপকথন আড়ি পেতে শোনে না। বাস্তব দিক থেকে বিচার করলেও, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের কথা যদি ২৪ ঘণ্টা রেকর্ড করতে হয়, তবে তার জন্য যে বিশাল ডেটা সার্ভার এবং খরচ লাগবে, তা কার্যত অসম্ভব এবং বেআইনি।
তাহলে এই ম্যাজিক হয় কীভাবে?
ম্যাজিক লুকিয়ে আছে আপনারই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, স্মার্ট অ্যালগরিদম এবং অ্যাপের পারমিশনে।
প্রথমত, আমরা যখন কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করি, তখন শর্তাবলি না পড়েই ‘Microphone’, ‘Location’, ‘Camera’ বা ‘Contacts’-এর পারমিশন অন্ধের মতো ‘Allow’ করে দিই। (Android voice tracking)
দ্বিতীয়ত, স্মার্টফোনের অ্যালগরিদম আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান। আপনি হয়তো বিরিয়ানি নিয়ে কথা বলার আগে বা পরে ফুড ডেলিভারি অ্যাপে একবার অজান্তেই উঁকি মেরেছিলেন। অথবা আপনার যে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন, সে হয়তো নিজের ফোনে বিরিয়ানি সার্চ করেছিল। আপনাদের দুই জনের ফোনের লোকেশন যেহেতু এক জায়গায়, তাই অ্যালগরিদম সহজেই ধরে নেয় আপনাদের পছন্দ এই মুহূর্তে একই রকম হতে পারে। আর সেই অনুমান থেকেই আপনার ফোনেও নিখুঁত বিজ্ঞাপনটি চলে আসে। এটি আড়ি পাতা নয়, বরং আপনার ব্যবহারবিধি বা ‘বিহেভিয়ারাল ডেটা’ বিশ্লেষণ করার ফল। (Android voice tracking)
কীভাবে মাইক্রোফোনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবেন?
তবুও সাইবার সুরক্ষার খাতিরে অ্যাপগুলোকে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া মোটেও উচিত নয়। আপনার অজান্তে কোনও অ্যাপ যেন মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য আজই এই সহজ সেটিংটি বদলে ফেলুন:
১. আপনার ফোনের সেটিংসে যান।
২. সেখান থেকে Privacy বা Security & Privacy অপশনে ক্লিক করুন।
৩. এরপর Permission Manager-এ গিয়ে Microphone সিলেক্ট করুন।
৪. এখানে আপনি দেখতে পাবেন কোন কোন অ্যাপ আপনার ফোনের মাইক্রোফোন ব্যবহার করার অনুমতি পেয়ে বসে আছে।
৫. যে অ্যাপগুলোর মাইক্রোফোন দরকার নেই (যেমন ধরুন গেমিং অ্যাপ, শপিং অ্যাপ বা ক্যালকুলেটর), সেগুলোতে ক্লিক করে সোজা Don’t allow করে দিন। আর খুব দরকারি অ্যাপ হলে Ask every time অপশনটি বেছে নিন। (Android voice tracking)
আজকের টোটকা:
স্মার্টফোনের স্ক্রিনের ওপরের ডানদিকের কোণায় (ব্যাটারি আইকনের পাশে) সর্বদা খেয়াল রাখবেন। যদি কখনো দেখেন সেখানে ছোট্ট একটি সবুজ রঙের ডট জ্বলছে, তার মানে সেই মুহূর্তে কোনও অ্যাপ আপনার মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার করছে। বিনা কারণে সেটি জ্বললে অবিলম্বে সতর্ক হোন। (Android voice tracking)
আরও পড়ুন :- Password-এর ঝামেলা কমাতে নতুন ফিচার, সেলফি ভিডিয়ো চালু করল Google












