সুরাপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় ‘রাম’ ব্র্যান্ড ‘ওল্ড মঙ্ক’ (Old Monk)-এর কয়েকটি ভ্যারিয়্যান্টকে নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। সংস্থার অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম না মেনেই কিছু ভ্যারিয়্যান্টে কৃত্রিম উপায়ে স্বাদ ও গন্ধ তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণেই তিনটি নির্দিষ্ট ভ্যারিয়্যান্টের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উপর আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
Old Monk: কী অভিযোগ উঠেছে?
FSSI জানিয়েছে, রাম বা হুইস্কির নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ তৈরি হয় দীর্ঘ সময় ধরে পরিপক্বকরণ (এজিং) এবং নির্দিষ্ট ব্লেন্ডিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কিন্তু তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে নিউট্রাল স্পিরিটের সঙ্গে কৃত্রিম ফ্লেভার ও সুগন্ধ মিশিয়েই নাকি ওই ব্র্যান্ডের পানীয় তৈরি করা হয়েছে। যা খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মের পরিপন্থী।
‘৭ বছরের পুরনো’ দাবি নিয়েও প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ‘ওল্ড মঙ্ক XXX রাম’-এর একটি ভ্যারিয়্যান্টকে ঘিরে। ওই পণ্যের লেবেলে ‘৭ বছরের পুরনো ব্লেন্ডেড’ বলে উল্লেখ করা হলেও অভিযোগ, মিশ্রণের বেশিরভাগ অংশই ছিল অপরিপক্ব বা নিউট্রাল স্পিরিট এবং পরিপক্ব রামের পরিমাণ ছিল ৫ শতাংশেরও কম। ফলে লেবেলে দেওয়া তথ্য ভোক্তাদের বিভ্রান্ত ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
নিয়ম কী বলছে?
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (অ্যালকোহলিক বেভারেজেস) রেগুলেশনস, ২০১৮ অনুযায়ী, কোনও ব্লেন্ডেড মদ্যপ পানীয়ের বয়স উল্লেখ করতে হলে মিশ্রণে থাকা সবচেয়ে কম বয়সি স্পিরিটের ভিত্তিতেই সেই তথ্য দিতে হবে। তাই বোতলের লেবেলে ভুল বা বিভ্রান্তিকর কোনও দাবি করা নিয়মবিরুদ্ধ।
অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান, নন্দীগ্রামে ২৮ কেন্দ্রে নোটিশ
শুধু ওল্ড মঙ্ক নয়, নজরে আরও সংস্থা
তবে FSSAI সূত্রে খবর, শুধু ওল্ড মঙ্ক (Old Monk) নয়, আরও কয়েকটি সুরা প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ভ্যারিয়্যান্টগুলি বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থাগুলি প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সমস্ত নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও সুযোগ থাকবে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও পণ্যের লেবেলে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে যেমন ভোক্তারা সঠিক তথ্য জানতে পারেন, তেমনই বাজারে স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
এই ঘটনার পর সুরা শিল্পে গুণমান, লেবেলিং এবং নিয়ম মেনে উৎপাদন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সুরাপ্রেমীদের কপালেই ভাঁজ দেখা যাচ্ছে। অজান্তেই হয়তো এতদিন পান করে এসেছেন নিম্ন মানের পানীয় এই আশঙ্কাই করছেন তাঁরা।












