বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino)। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এখন জোর আলোচনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেও আগের মতো ঘনিষ্ঠতা আর নেই। যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত ফিফা বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত ফিফার একটি নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস’ নামে একটি পৃথক সংস্থা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ-সহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক পরিচালনার দায়িত্ব এই নতুন সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সংস্থাটির অন্তত ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।
এই বিনিয়োগের দৌড়ে এগিয়ে ছিল মার্কিন সংস্থা ‘থ্রাইভ ইটারনাল’। সংস্থাটির মালিক জোশুয়া কুশনার। ইনি আবার ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ভাই। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। সমালোচকদের অভিযোগ, ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলির বাণিজ্যিক অধিকার সীমিত কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ফিফার সদস্য সংস্থা, ফুটবল প্রশাসক এবং ক্রীড়া মহলের প্রবল আপত্তির জেরে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই ইনফান্তিনোর (Gianni Infantino) নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে একাধিক দেশ বর্তমান সভাপতিকে সমর্থন নাও করতে পারে। ফলে তাঁর পুনর্নির্বাচনের পথ আগের তুলনায় অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষমা না চাইলেই আইনি পদক্ষেপ! মেটাকে ৩ দিন সময় বেঁধে দিল সংসদীয় কমিটি
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন রাজনৈতিক সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও আগের মতো নেই। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, সদ্য শেষ হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপ চলাকালীন ট্রাম্পের একাধিক পদক্ষেপকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও, ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি তাঁকে বিশেষ সম্মানও জানানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সম্পর্কের উষ্ণতা অনেকটাই কমে গিয়েছে বলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে জল্পনা চলছে।












1 thought on “বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বিতর্কে চাপে ইনফান্তিনো, ট্রাম্পের সঙ্গেও কি বাড়ছে দূরত্ব?”