এক প্রকার নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। টানা ৬ দিনই আকাশপথে। চোখ শুধু নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে। প্রাণের খোঁজ যদি পান। দুর্যোগের পর নেপাল-তিব্বত সীমান্ত থেকে হাজার হাজার জনকে উদ্ধার করেছেন নেপালের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী (Priya Adhikari)।
কোথায় কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে মৃতদেহ, তা দেখতে তাঁর হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে। একটাই আশা, হয়তো কেউ বেঁচে রয়েছেন (Priya Adhikari)। এইভাবেই টানা ৬ দিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়া। সম্প্রতি তিনি একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, ‘এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় আগে দেখিনি।’
প্রায় ১০০টি উদ্ধারকাজে সামিল হয়েছিলেন প্রিয়া। চারিদিকে মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভুলতে পারছেন না। ক্লান্তিহীন শরীর নিয়েই ওই দুর্যোগের মধ্যেই প্রথম দুদিনে প্রায় ২০০ জন জীবিত মানুষকে উদ্ধার করেছেন তিনি। এই উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর পাঁচ-ছয়টি হেলিকপ্টার অংশ নেয়। সেই অভিযানে তিনিও ছিলেন।
Priya Adhikari: কে এই প্রিয়া?
২০১৭ সাল থেকে তিনি হেলিকপ্টার চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সময় থেকেই তিনি দুর্গম অঞ্চলে (High-altitude rescue pilot) উদ্ধারকারী পাইলট হিসেবে কাজ করতেন। এই পেশায় আসার আগে তিনি পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং কিছুদিন কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে ফিলিপিন্সে গিয়ে তিনি হেলিকপ্টার চালনার প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে উত্তীর্ণ হন। তারপর ২০১৭ সালে তিনি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন।
এর আগে তিনি কোনওদিন এত ভয়াবহতা দেখেননি। সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে, বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যখনই আমি হেলিকপ্টার নিয়ে নামতে যাই, চারপাশে অনেক মানুষকে দেখতে পাই। আমি তাঁদের দিকে হাত নেড়ে বলি, ভাগ্য ভালো বলে বেঁচে গিয়েছেন।’’ তবে এই ধ্বংসস্তূপে মৃত্যু মিছিলের মধ্যেও জীবিতদের দেখে স্বতির নিঃশ্বাস ফেলেন প্রিয়া। তিনি বলেন, নেপালের ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াবহ এই বিপর্যয়।












