রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

UNESCO-র বিশ্বদরবারে অসমের ‘রংপুর-শিবসাগর’, কেন জানেন? জানুন ইতিহাস

Published on: September 5, 2026
Assams Rangpur Sivasagar
---Advertisement---

ঐতিহ্যের মর্যাদার জন্য মনোনীত হলো অসমের ‘রংপুর-শিবসাগর’ এলাকা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, আহোম রাজ্যের ঐতিহাসিক রাজধানী ‘রংপুর-শিবসাগর’ এলাকাটিকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ (World Heritage) হিসেবে স্বীকৃতির জন্য UNESCO-র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রস্তাবটিতে আহোম রাজ্যের স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির ঐতিহ্যের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে রং ঘর, রাজপ্রাসাদ, মন্দির এবং ঐতিহাসিক জলাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব নিদর্শন (Assams Rangpur Sivasagar)।

Assams Rangpur Sivasagar: কেন UNESCO-র দরবারে অসমের ‘রংপুর-শিবসাগর’?

ঐতিহাসিক ‘রংপুর-শিবসাগর এনসেম্বল’-কে UNESCO-র বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই আহোম রাজবংশের রাজধানী ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এই রাজবংশ ছয় শতাব্দী ধরে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় শাসন চালিয়েছে (Assams Rangpur Sivasagar)।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ১৯ জুন UNESCO-র কাছে এই মনোনয়ন প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। চরাইদেও মৈদাম যদি আহোম রাজাদের ‘শয়ান কক্ষ’ (যেখানে রাজবংশ সমাহিত) হয়, তবে রংপুর-শিবসাগর হলো তাঁদের ‘শাসন কক্ষ’। এই দুই ঐতিহাসিক স্থান মিলেই আহোম সাম্রাজ্যের সম্পূর্ণ ইতিহাসকে তুলে ধরে।

আহোম রাজ্যের ইতিহাস

৬০০ বছরের গৌরবময় শাসন: ১২২৮ থেকে ১৮২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় শাসন চালাচ্ছিল, তাই-আহোম বা আহোম রাজবংশ। এই দীর্ঘ সময়ে রংপুর (বর্তমান শিবসাগর জেলা) ছিল তাদের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্র।

রং ঘর :

এটি এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো টিকে থাকা অ্যাম্ফিথিয়েটার বা ক্রীড়া মণ্ডপগুলির একটি। আহোম রাজারা এই দোতলা ভবনের ওপর বসে প্রজাদের সঙ্গে খেলাধুলা, মহিষের লড়াই এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন।

তালাতল ঘর ও কারেং ঘর :

এটি ছিল আহোম রাজাদের সামরিক দুর্গ। এর স্থাপত্যশৈলী এবং বিশেষ করে এর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও গোপন কক্ষগুলি আহোমদের সামরিক ও প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন।

উন্নত জল-ব্যবস্থাপনা ও বিশাল দীঘি:

রংপুর-শিবসাগরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাক-আধুনিক জল-বণ্টন ও নগর পরিকল্পনা। এখানে রয়েছে মানুষের তৈরি বিশাল সব জলাশয় ও দীঘি, যেমন—জয়সাগর, গৌরীসাগর এবং শিবসাগর দীঘি। এই দীঘিগুলির পাড়েই গড়ে উঠেছিল জোয়সাগর, শিবসাগর ও গৌরীসাগরের বিখ্যাত মন্দিরগুলি।

ঐতিহাসিক সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা:

এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পাথরের তৈরি নামদাং শিলা সেতু আজও অক্ষত রয়েছে। যা প্রাচীন প্রকৌশল বিদ্যার এক বিস্ময়কর উদাহরণ।


Rima Dutta Ghosh

প্রায় ৮ বছর ধরে সাংবাদিকতার জগতে। শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যাদবপুর ইউনির্ভারসিটি থেকে মাস কম-এ পড়াশোনা করতে করতেই জেলা সাংবাদিকতায় ঢোকা। তারপর থেকেই শুরু চড়াই-উতরাই। সেখান থেকে এবটি ওয়েট পোর্টালে কপি রাইটার হিসাবে কাজ শুরু। তারপর টেলিভিশন জগতে। সেখানে প্রায় ৪ বছর কাজ করা। কপি রাইটার থেকে বুলেটিন প্রডিউসার। কথাটা সহজ হলেও পথ চলাটা ছিল কঠিন।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

2 thoughts on “UNESCO-র বিশ্বদরবারে অসমের ‘রংপুর-শিবসাগর’, কেন জানেন? জানুন ইতিহাস”

Leave a Comment