দীর্ঘ ৩৫ বছর একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। হঠাৎ একটা ফোন কল, বদলে গেল জীবনের মোড়। SIR-এ বদলে গিয়েছে অনেকের জীবন। ঠাঁই হয়েছে অন্য ঠিকানায়। ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা যেখানে নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে, সেখানে এই SIR-ই মিলিয়ে দিল হরিয়ানার দুই ভাইকে। তাও আবার ৩৫ বছর পর। তিন দশক পর হরিয়ানায় নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন, সীতারাম। খুঁজে পেলেন ভাইকে। SIR-এই তা সম্ভব হলো (SIR reunited brothers in Haryana after 35 years)।
SIR reunited brothers in Haryana after 35 years: কেন ৩৫ পর বাইরে ছিলেন সীতারাম?
হারিয়ানার জিন্দের মনোহরপুরে গ্রামের বাড়ি সীতারামের। সেখানেই তাঁর ছোটবেলা কেটেছে। ৩৫ বছর আগে তিনি চাকরি পেয়ে পাঞ্জাবে চলে যান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সীতারাম পাঞ্জাবে ‘গ্রুপ-ডি’ পদে চাকরি পান। হরিয়ানার মনোহরপুরের গভর্নমেন্ট সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। সেই স্কুলে সীতারামের এসআইআরের নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। SIR-এর জন্য প্রয়োজনীয় বেশকিছু নথিপত্র নিতে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি যান (SIR reunited brothers in Haryana after 35 years)।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অবশেষে একটি ফোন তাঁর ভাই কৃষ্ণর কাছে পৌঁছয়। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভাইকে তিনি খুঁজছিলেন। সীতারামের খোঁজ পেয়ে কৃষ্ণবাবু হতবাক হয়ে যান। তিনি অবিলম্বে ‘বুথ লেভেল অফিসার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিশ্চিত হন যে সীতারাম সত্যিই তাঁর ছোট ভাই।
এরপর তিনি দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। ৩৫ বছর পর দুই ভাই মুখোমুখি হলেন। তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা গেছে, সীতারাম তাঁর বড় ভাইয়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তটি স্কুলের কর্মী ও উপস্থিত অন্যদেরও গভীরভাবে স্পর্শ করে। এরপর দুই ভাই স্কুটারে করে একসঙ্গে সেখান থেকে চলে যান। এভাবেই প্রায় ৩৫ বছরের দীর্ঘ বিচ্ছেদের অবসান ঘটে।
পরিবার সূত্রে খবর, সীতারামরা ছয় ভাই। তার মধ্যে পঞ্চম তিনিই। হারিয়ানার জিন্দ ছাড়ার পর তিনি পাঞ্জাবে কয়েক দশক ধরে নানা ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের চাকরিতে যোগ দেন।










