শিক্ষক দিবসে মিড ডে মিলে বিশেষ খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র (Jalpaiguri Zilla School) জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের মারধরের অভিযোগ উঠল প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের বিরুদ্ধে। পাল্টা প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদের বিরুদ্ধেও। মারের চোটে তাঁর কপাল ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে পৌঁছয় পুলিশ ও র্যাফ। এমনকী আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িও আটকে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে।
Jalpaiguri Zilla School: মাংসের আয়োজন ঘিরেই সূত্রপাত
গত শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ছিল শিক্ষক দিবস। সেদিন স্কুলে হাফ ছুটি থাকায় বিশেষ খাওয়াদাওয়া হয়নি। পড়ুয়াদের দাবি, প্রধান শিক্ষক জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার মিড ডে মিলে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ মেনুর আয়োজন করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার স্কুলে মাংস রান্না হয়। সকাল থেকেই দশম শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়া রান্নাঘরের কাছে গিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছিল বলে জানা গিয়েছে।
Jalpaiguri Zilla School: ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ
পড়ুয়াদের অভিযোগ, তারা মিড ডে মিলের ঘরে ঢোকেনি, বাইরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক সেখানে গিয়ে তাদের মারধর করেন। এক ছাত্রের অভিযোগ, ‘একজনকে ধরে দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়া হয় এবং অন্য এক ছাত্রের গলা টিপে ধরেন প্রধান শিক্ষক।’ গলায় আঙুলের দাগও পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাল্টা হামলা, রক্তাক্ত প্রধান শিক্ষক
এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। (Jalpaiguri Zilla School) পড়ুয়ারা প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। স্কুলের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রধানশিক্ষকের ঘরের দরজা ও জানলার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। যদিও প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদে ছাত্ররা ঘিরে ধরলে পালাতে গিয়ে পড়ে যান প্রধান শিক্ষক, তখনই তাঁর মাথায় আঘাত লাগে।
‘মাংস আলাদা করে রাখা হয়েছিল’, অভিযোগ
(Jalpaiguri Zilla School) ছাত্রদের আরও অভিযোগ, এদিন মিড ডে মিলে মাংস দেওয়া হলেও সবাই তা পায়নি। কয়েক বাটি মাংস আলাদা করে রাখা হয়েছিল, যা প্রধান শিক্ষকের নিয়ে যাওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্কুলে এর আগেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডায়েরি বিক্রি, মিড ডে মিল-সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি শিক্ষক, অভিভাবক ও পড়ুয়াদের একাংশের।
পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ (Jalpaiguri Zilla School) স্কুলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাফ নামানো হয়। আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পড়ুয়ারা পুলিশের গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখায় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ছাত্র ও প্রধানশিক্ষক—দু’পক্ষকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Jalpaiguri Zilla School: ক্ষোভ অভিভাবক ও প্রাক্তনীদেরও
অভিভাবকদের একাংশ প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি তুলেছেন। অভিভাবক প্রতিমা বসাকের অভিযোগ, তাঁর জন্য স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। অভিভাবক দীপা দাসের দাবি, প্রধানশিক্ষক কথা বলতে গেলে খারাপ ব্যবহার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শিক্ষক বাপ্পা চক্রবর্তী ঘটনাটিকে ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুলের জন্য ‘কলঙ্কিত দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি অন্যত্র থাকায় পুরো বিষয়টি জানেন না। প্রাক্তন ছাত্র ধীরাজ মোহন ঘোষের মতে, ছাত্র-প্রধান শিক্ষকের সম্পর্কের এতটা অবনতি কেন হল, তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
‘পড়ুয়াদেরই কেন দিতে হবে মূল্য?’ দিল্লিতে হস্টেল ধসের পর মোদিকে নিশানা CJP প্রতিষ্ঠাতার









