ট্রেনে বা স্টেশনে কোনও সমস্যা হলে যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম RailMadad। এবার সেই ব্যবস্থাতেই বড়সড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ভারতীয় রেল। অভিযোগ সঠিক বিভাগে পাঠানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে দ্রুত চিহ্নিত করা, ভুল ক্যাটেগরি সংশোধন এবং অযথা বারবার অভিযোগ দায়ের বন্ধ করার মতো একাধিক বিষয়ে বদল আনা হতে পারে। লক্ষ্য একটাই—যাত্রীর অভিযোগ আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্মার্ট উপায়ে নিষ্পত্তি করা।
৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে বোর্ডের সঙ্গে বিভিন্ন জোনাল রেলওয়ে এবং Centre for Railway Information Systems (CRIS)-এর আধিকারিকদের ভিডিয়ো কনফারেন্সে এই প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা হয়।
Table of Contents
RailMadad: জল সংক্রান্ত অভিযোগে বদল
ট্রেনে জলের সমস্যা নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি রয়েছে। দক্ষিণ রেলওয়ে জানিয়েছে, অনেক সময় অভিযোগটি ট্রেনের প্রধান ডিপো বা যেখানে জল ভরা হয়েছে সেই ডিভিশনের কাছে চলে যায়। অথচ সমস্যাটি আগের জল সরবরাহ কেন্দ্রে তৈরি হতে পারে। তাই পূর্ববর্তী জল সরবরাহ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা তৈরির কথা ভাবছে CRIS।
পূর্ব রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, কখনও বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়গুলো ‘জলের প্রাপ্যতা’ অভিযোগকে ‘কোচ রক্ষণাবেক্ষণ’-এ বদলে দেয়। রেল বোর্ডের নির্দেশ, যথাযথ কারণ না থাকলে অভিযোগের নির্ধারিত ক্যাটেগরি বদলানো যাবে না।
বন্দে ভারতের খাবারের অভিযোগেও স্পষ্ট হবে দায়িত্ব
বন্দে ভারতে আসন এলাকায় পড়ে থাকা খাবারের মতো অভিযোগ অনেক সময় জোনাল রেলওয়ের কাছে চলে যায়, যদিও সংশ্লিষ্ট পরিষেবার দায়িত্ব IRCTC-র। ফলে অভিযোগ সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছয় না বা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। এবার CRIS, IRCTC এবং সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে বোর্ডের অধিদফতর মিলে এমন ব্যবস্থা করবে, যাতে অভিযোগ শুরুতেই সঠিক সংস্থার কাছে পৌঁছয়।
OBHS না থাকা ট্রেনে দায়িত্ব নির্ধারণে নতুন ব্যবস্থা
On Board Housekeeping Services (OBHS) না থাকা ট্রেনে যাত্রীকে তাৎক্ষণিক সাহায্য করতে গিয়ে অনেক সময় যে ডিভিশন সাহায্য করে, অভিযোগের দায়ও তাদের উপর চলে আসে। ভবিষ্যতে অভিযোগটি যে ডিভিশনে প্রকৃত সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেই ডিভিশনের কাছেই পাঠানোর ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যাত্রীকে যাতে তাৎক্ষণিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
OTP ছাড়াই অভিযোগ বন্ধের পথ?
বর্তমানে অভিযোগ নিষ্পত্তির পর OTP বা লিঙ্কের মাধ্যমে যাত্রীর প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় লিঙ্ক পৌঁছয় না, আবার অভিযোগ মিটে গেলেও যাত্রী OTP দিতে আগ্রহী হন না। ফলে অভিযোগ খোলা থেকে যায়। তাই OTP-নির্ভর প্রতিক্রিয়ার বিকল্প এবং প্রতিক্রিয়া না এলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিযোগ বন্ধ করার পদ্ধতি তৈরির কথা ভাবছে CRIS।
‘তুম্বাড’-এর যোগেই কি জমবে ‘নয়ি নাভেলি’? টিজারেই ইয়ামি গৌতমে মুগ্ধ নেটপাড়া
লিনেন স্টাফ ও কোচ মিত্রর তথ্য মিলবে RailMadad-এ
OBHS কর্মী ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার যোগাযোগের তথ্য RailMadad-এ থাকলেও লিলেন বিতরণ কর্মী এবং কোচ মিত্র হিসেবে কর্মরত বিভাগীয় কর্মীদের একই ধরনের তথ্য বর্তমানে নেই। রেলওয়ে বোর্ড CRIS-কে CMM পোর্টাল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য এনে RailMadad-এ দেখানোর ব্যবস্থা করতে বলেছে।
RailMadad: পুনঃনির্ধারিত ট্রেন ছাড়ার আগেই অভিযোগ নয়
কোনও ট্রেন পুনঃনির্ধারিত হলে সেটি উৎস স্টেশন থেকে ছাড়ার আগেই কখনও অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। এই সমস্যা ঠেকাতে ট্রেনটি প্রকৃত ছাড়ার আগে অভিযোগ রেজিস্টার না করার ব্যবস্থা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগ বারবার দায়ের-এ লাগাম
একই ডিভাইস বা PNR থেকে অল্প সময়ের মধ্যে একই ধরনের একাধিক অভিযোগ দায়েরের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোনাল রেলওয়ে। CRIS-কে এমন logic তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একই ধরনের পুনরাবৃত্তি রোধ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে প্রকৃত এবং এখনও সমাধান না হওয়া অভিযোগ যেন ভুল করে আটকে না যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল ট্রেন/স্টেশন ক্যাটেগরি সংশোধন ও নতুন ড্যাশবোর্ড
অনেক যাত্রী ট্রেনের সমস্যা জানাতে গিয়ে ভুল করে ‘স্টেশন’ ক্যাটেগরি বেছে নেন। ফলে অভিযোগ স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যায় এবং ট্রেন ও স্টেশনের অভিযোগ তথ্যও প্রভাবিত হয়। তাই অনুমোদিত ব্যবহারকারীকে ভুলভাবে নিবন্ধিত অভিযোগ সঠিক ক্যাটেগরিতে পুনঃশ্রেণীবদ্ধ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে CRIS।
পাশাপাশি অভিযোগের পরিস্থিতি নজরে রাখতে CRIS একটি নতুন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড তৈরি করেছে। জোনাল রেলওয়েগুলিকে সেটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নতুন ফিচারের পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে RailMadad-এর এই সম্ভাব্য সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল অভিযোগের সঠিক দায়িত্ব নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় বিভাগীকরণ কমানো এবং দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা। তবে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি বাস্তবে যাত্রীর সমস্যা কতটা দ্রুত ও সহজে মেটায়, সেটাই হবে এর সাফল্যের আসল পরীক্ষা।
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান, দাবি মার্কিন রিপোর্টের












