কুশল চক্রবর্তী
ভারতে অনেক পরিকল্পনা খুব সুন্দর ভাবেই শুরু হয়। যেমন থাকে তার মানব কষ্ট লাঘবের প্রয়াস তেমন থাকে তার উপকারিতার সর্বজন প্রভাব (Jan Dhan Account)। কিন্তু সময় যত যায় তার থেকে উঠে আসে নানা বিপরীত প্রভাব। ২০১২ সালে যখন ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া গরীব লোকেদের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার জন্য “বেসিক সেভিংস ব্যাঙ্ক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট” খোলা শুরু করেছিল, তখন সাধারণ মানুষ দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেছিল ব্যাঙ্ককে। তারপর যখন ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পকে এক ধাপ এগিয়ে “জনধন প্রকল্প” নাম দিয়ে সারা ভারতে তার প্রসার করেছিলেন তখনও মানুষ তাঁর প্রশংসাই করেছিল। কিন্তু আজ এক যুগ চলে যাওয়ার পর সেই জনধন প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট এর প্রকৃত অবস্থা জানতে তথ্যের অধিকার আইনের সাহায্য নিতে হচ্ছে। এটাই তো চিন্তার কথা।
আরও পড়ুন: টাটাকে দেশ ছাড়া নির্দেশ প্রেসিডেন্টের, বড় বিপাকে সংস্থা
বিগত ১২ বছরে এই জনধন প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট আড়ে বহরে বেশ বেড়েছে। এই বছরের অগস্ট মাসের হিসাব বলছে ৫৯ কোটি জনধন অ্যাকাউন্ট দেশে খোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে মহিলাদের অ্যাকাউন্ট ৩০ কোটি ছাড়িয়েছে। আর এই সব অ্যাকাউন্টগুলোতে আছে প্রায় ৩.১৫ লক্ষ কোটি টাকা। একদিক থেকে দেখতে গেলে ব্যাপারটা বেশ ভালোই। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ১৫ কোটি ৩৬ লক্ষের বেশি অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেনই হয় না। মানে এই অ্যাকাউন্টগুলো হয়ত খোলা হয়েছিল শুধু পরিসংখন বাড়ানোর জন্য। আবার ৫.৭২ কোটি অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই নেই। তাহলে যে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই অ্যাকাউন্টগুলো খোলা হয়েছিল তা কি শুধু সংখ্যার খেলা হয়েই রইল? (Jan Dhan Account)
অন্য দিকে দেখুন এই যে অ্যাকাউন্টে টাকা না রেখে জনধন অ্যাকাউন্টগুলো খোলা হলো, তার ৯৭% খুলল সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। আর প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলো যারা কি না সব সময় “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” বলে চিৎকার করে, তারা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন সুন্দর প্রয়াসেও তেমন মাথা ঘামাল না। অথচ এই কেন্দ্রীয় সরকার কিন্তু এমন ব্যবস্থা করল যাতে কি না এই সমস্ত প্রাইভেট ব্যাঙ্কের কোনও কর্ণধার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে। সত্যিই অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার নয় কি? (Jan Dhan Account)
এই তথ্যের অধিকার আইনে যে সত্য উঠে এল তা আরও মজার। যে উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি ১০.৫২ কোটি জন ধন অ্যাকাউন্ট খেলা হলো, সেখানেই সবচেয়ে বেশী ৪.১৪ কোটির মতো অ্যাকাউন্টে হয় কোনও কাজই হয় না বা কোনও টাকাই থাকে না। অন্য দিকে হিসাব নিয়ে দেখা গেছে এই সব অ্যাকাউন্ট খুলতে ও আনুসাংঙ্গিক কাজের জন্য ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট প্রতি ২০০ টাকার মতো খরচ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০০ কেজি আখ থেকে কতটা চিনি উৎপাদন হয়? শুনলে অবাক হবেন
কিন্তু সীমিত সংখ্যক কর্মচারী নিয়ে এই বর্ধিত গ্রাহকদের নিয়মিত পরিষেবা দিতে গিয়ে হয়তো ব্যাঙ্কের বিত্তবান গ্রাহকদের প্রতি কিছুটা হলেও কম প্রাধান্য দেওয়া গেছে, এমন তো হতেই পারে। এর ফলে কিছু বিত্তবান গ্রাহক ভালো পরিষেবা পাওয়ার জন্য প্রাইভেট ব্যাঙ্কে তাদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিয়েছে। তা হলে এটা বোঝা যাচ্ছে যে মহৎ উদ্দেশ্যে এই জনধন অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যাপারটা সরকার বাহাদুর করেছিলেন তা পুরোপুরি হয়তো সার্থক হয়নি। কিন্তু এখনও সময় আছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর এই অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে যদি ভালো করে অনুসন্ধান করা যায়, তবে হয়তো এই পরিকল্পনার অনেক বেশি সার্থকতা আগামী দিনে দেখা পাওয়া যেতে পারে। (Jan Dhan Account)











