কল্যাণী স্টেডিয়ামে কলকাতা ফুটবল লিগের গ্রুপ সিক্সের (East Bengal FC vs Mohamedan SC) ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করল ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিং। ৯০+৫ মিনিটে কর্নার থেকে আকাশ হেমব্রমের দুরন্ত অ্যাক্রোব্যাটিক ভলিতে সমতা ফেরে ইস্টবেঙ্গল। তার আগে ৬৯ মিনিটে লালথাংকিমার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মহামেডান। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।
Table of Contents
East Bengal FC vs Mohamedan SC: শুরুতে মহামেডানের দাপট
৪-৩-৩ ছকে শহীদ রেহমানের মহামেডান শুরু থেকেই বলের দখল রেখে আক্রমণে ওঠে। বিপরীতে অর্চিষ্মান বিশ্বাসের ইস্টবেঙ্গল হাই প্রেস করে। ৪ মিনিটে কর্নার থেকে লালথাংকিমার বক্সের ভিতর থেকে নেওয়া জোরালো শট গৌরব সাউ হাত তুলে ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন। ৬ মিনিটে মহামেডানের আকাশ দাস চোট পান। ১৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের বিজয় মুর্মু বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে মাটিঘেঁষা শট নিলেও নিখিল ডেকা নিচে ঝাঁপিয়ে তা আটকে দেন।
East Bengal FC vs Mohamedan SC: ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাঘাত, গোল নেই
১৬ মিনিটে উত্তম হাঁসদা ও বিজয়ের ডানদিকের আক্রমণ থেকে বল যায় আকাশ হেমব্রমের কাছে। বাঁ দিকের সংকীর্ণ কোণ থেকে তাঁর শট সাইড নেটে লাগে। ১৯ মিনিটের পর বলের দখল বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। তবে মহামেডানের বক্সে গিয়ে আক্রমণের শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ে বারবার খেই হারায় লাল-হলুদ।
২৩ মিনিটে মনোতোষ চাকলাদার লালথাংকিমাকে বক্সের বাইরে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় মহামেডান। অধিনায়ক মহিতোষ রায়ের নেওয়া শট পাঁচজনের ওয়ালে লেগে ফিরে আসে। ২৯ মিনিটে ইসরাফিল দেওয়ানকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ইস্টবেঙ্গলের শুভ বিশ্বাস। ৩০ মিনিটে মহিতোষের ফ্রি-কিক থেকে দীনেশ মেইতেইয়ের হেড সরাসরি গৌরবের হাতে যায়।
৩৫ মিনিটে বিজয় মুর্মুর দূরপাল্লার জোরালো শট সরাসরি মহিতোষের মুখে লাগে। ৩৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে লালথাংকিমার দুরন্ত ভলি প্রায় নিশ্চিত গোল হয়ে যাচ্ছিল। গোলের দিকে উঠে যাওয়া বলটিতে ফুল-স্ট্রেচে আঙুল ছুঁইয়ে অসাধারণ সেভ করেন গৌরব। ৪৫+১ মিনিটে বিজয়কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন অর্পিত ছেত্রী। বিরতিতে স্কোর ০-০।
East Bengal FC vs Mohamedan SC: চোট ও জোড়া পরিবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল উত্তম হাঁসদা ও শুভ বিশ্বাসকে তুলে দেবদত্ত ও সুমন দে-কে নামায়। ৪৮ মিনিটে চোটের কারণে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন মহামেডানের আকাশ দাস; তাঁর জায়গায় নামেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার হীরা মণ্ডল।
৫৬ মিনিটে পরপর কর্নার পায় ইস্টবেঙ্গল। ৫৭ মিনিটে দেবদত্তের হেড গোললাইন পেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে জুয়েল আহমেদ মজুমদার গোললাইন থেকে বল উড়িয়ে দিয়ে মহামেডানকে বাঁচান। ৫৮ মিনিটে চোট পেয়ে সুমন দে-ও স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন। পরে সৌমিক কোলে ও মহম্মদ বিলাল নামেন; উঠে যান অর্ঘ্য সরকার-সহ পরিবর্তিত ফুটবলাররা।
East Bengal FC vs Mohamedan SC: লালথাংকিমার গোলে এগিয়ে মহামেডান
৬২ মিনিটে গৌরব সাউ ও ইসরাফিল দেওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও কারও কার্ড হয়নি। ৬৮ মিনিটে তাংভা রাগুইয়ের জায়গায় নামেন ইয়াশ চিক্রো। পরের মিনিটেই গোল।
লালরেমসাঙ্গা দুরন্ত আক্রমণে উঠে শট না নিয়ে বুদ্ধিদীপ্তভাবে বল বাড়ান লালথাংকিমাকে। গোললাইন ছেড়ে অনেকটা বেরিয়ে আসা গৌরবকে কাটিয়ে শট নেন তিনি। ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল পোস্টে ধাক্কা খেয়ে গোললাইন ঘেঁষে ঢুকে যায়। লাইন্সম্যান গোলের সংকেত দেন। ৬৯ মিনিটে ১-০ এগিয়ে যায় মহামেডান।
৭৫ মিনিটে গোলদাতা লালথাংকিমাকে তুলে অ্যাডিসন সিং এবং লাংহাইসাকাকে নামানো হয়। ৭৭ মিনিটে দেবদত্তের নেওয়া শট বাইরে যায়। ৮০ মিনিটে ভলি থেকে ইস্টবেঙ্গলের আর একটি শট অনেকটা দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়। শেষ দশ মিনিটে একতরফাভাবে আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব কাটেনি। মহামেডানের গোলকিপার নিখিল ডেকাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।
East Bengal FC vs Mohamedan SC: ৯০+৫ মিনিটে অবিশ্বাস্য সমতা
৯০ মিনিটের পর যোগ হয় ছয় মিনিট। ৯০+৪ মিনিটে দেবদত্তের কাছ থেকে গোল বাঁচিয়ে আবারও দলকে রক্ষা করেন নিখিল ডেকা; পরে তিনিও হলুদ কার্ড দেখেন।
এর ঠিক এক মিনিট পর নাটকীয় সমতা। কর্নার থেকে বল এসে পড়ে মহামেডানের বক্সে। জটলার মধ্যে শরীরকে শূন্যে তুলে প্রায় কাঁচির মতো ভঙ্গিতে অ্যাক্রোব্যাটিক ভলি নেন আকাশ হেমব্রম। বল জালে জড়িয়ে যায়। ৯০+৫ মিনিটে ১-১ করে ইস্টবেঙ্গল।
আজকে চাকু মান্ডি, মনতোষ মাঝি ও বিক্রম সিংকে না পাওয়া ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই এক পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দারুণ ফর্মে থাকা আকাশ হেমব্রম শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচালেন।
বাংলার ফুটবল উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি তৈরি করবেন মিঠুন














1 thought on “মহামেডানের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল, ড্র করে ট্রফির দৌড় কঠিন করল ইস্টবেঙ্গল”
Comments are closed.