৯৫ বছর বয়সে অন্নপ্রাশন। কথাটা শুনেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। সাধারণত যেখানে জীবনের প্রথম বছর পার হওয়ার আগেই শিশুর মুখে প্রথম ভাত তুলে দেওয়া হয়, সেখানে জীবনের প্রায় এক শতাব্দী পার করে এসে এই অন্নপ্রাশনের আয়োজন সত্যিই বিরল ঘটনা (rice ceremony)।
rice ceremony : ৯৫ বছর বয়সে কেন অন্নপ্রাশন উদযাপন?
আসল ঘটনা ৯৫ বছর বয়সে দাদুর নতুন দাঁত গজিয়েছে। আর তা দেখেই আনন্দে আত্মহারা দাদুর নাতি নাতনিরা। ঘটনাটি আলিপুরদুয়ারের ২ ব্লকের টোটোপাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাতোপাড়া গ্রামের রায় পরিবারে। নতুন দাঁত দেখা মাত্রই দাদুর অন্নপ্রাশনের আয়োজন করে বসলেন নাতি-নাতনিরা। একেবারে ঘটা করে চলল আয়োজন। শুধু তাই নয়, মাছ, ডাল, ভাত, লাবরা, পটলের তরকারি আর পাঁপড় ভাজা দিয়ে পাত পেড়ে খেলেন অন্তত ১৫০ মানুষ।
পরিবারের বিপুল আয়োজনে একেবারে খুশিতে ডগমগ নবীন চন্দ্র রায়। তবে তিনি একা নয়, দাঁত গজানোর ভাগিদারী পেয়েছেন ঠাকুমা ফুলকুমারি রায়ও। ঠাকুমাকেও এই উপলক্ষে টোপর পড়িয়ে মুখে ভাত দেওয়া হয়েছে। ব্যান্ডপার্টি, নতুন পোশাক, গলায় মালা, মাথায় মুকুট একেবারে অন্নপ্রাশনে যা যা আয়োজন হয় তার সবটাই করা হয়।
যা দেখেশুনে তো রীতিমতো অবাক স্থানীয় মানুষজন। নবীন চন্দ্রের নাতি রাজীব রায় বলেন, “আসলে ঠাকুরদার এই বয়সে নতুন দাঁত গজাবে তা আমরা কেউ ভাবতেই পারিনি। দাঁত গজানোর আনন্দে আমরা এই অন্নপ্রাশনের আয়োজন করেছি। ঠাকুরদার সঙ্গে ঠাকুমাকেও মুখে ভাত দেওয়া হয়েছে। একেবারে পুরোহিত ডেকে যেভাবে রীতি মেনে অন্নপ্রাশন হয়, সেভাবেই সবটা করা হয়েছে।”
রাজীববাবু আরও বলেন, “এই আয়োজনে পরিবারের সদস্যরা যেমন ছিলেন, তেমনই পাড়ার ১৫০ লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে।” জানা গিয়েছে, খাতোপাড়া গ্রামের নবীন চন্দ্র রায়ের দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে মেয়েদের ঘরে আবার রয়েছে নয়জন নাতি নাতনি। রেলের অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ডি কর্মী নবীন বাবু নিজেও খুব আমুদে ছিলেন।
১০-১২ দিন থেকে নাতি নাতনিদের নবীন বাবু দাঁত গজানোর বিষয়টি জানান। কিন্তু প্রথম প্রথম কেউ বিষয়টিকে পাত্তা না দিলেও পরে এক নাতি দেখেন সত্যিই দাদুর নতুন দাঁত গজিয়েছে। আর তারপরেই এই আয়োজন।










2 thoughts on “৯৫ বছর বয়সে ‘দাদু’র অন্নপ্রাশন, কেমন হলো উদযাপন? কী কী ছিল মেনুতে?”