(Seva Setu Camp) সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন। কারও মাথায় ছাতা, কেউ আবার গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না পরিষেবা—এমনই অভিযোগে শুক্রবার সকাল থেকে সোনারপুরের একাধিক সেবা সেতু ক্যাম্পে বিক্ষোভ দেখালেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভা এলাকায় ১৫টি দফতরের ৪৬টি পরিষেবা নিয়ে শুরু হচ্ছে সেবা সেতু অভিযান। ফলে ফুটে উঠেছে দুই ভিন্ন চিত্র। একদিকে পরিষেবা পাওয়ার আশায় মানুষের ভিড়, অন্যদিকে শিবির পরিচালনা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
Table of Contents
সোনারপুরে পরিষেবা না মেলার অভিযোগ

রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার রবীন্দ্র ভবন (Seva Setu Camp) সেবা সেতু ক্যাম্পে সকাল থেকেই চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাচ্ছেন না। সরকারি আধিকারিকদের কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন অনেকে। ক্ষিরিশতলা সেবা সেতু ক্যাম্পেও সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ। ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবারুণ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখানে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন করছি। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাদের ডিপার্টমেন্টের কাজ করছে। আমাদের সঙ্গে আশা কর্মীরা রয়েছেন। দেখুন বিক্ষোভ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি শুধু আয়ুষ্মান ভারতের দায়িত্ব রয়েছি।”
‘সকাল থেকে লাইনে, হচ্ছে না কাজ’

(Seva Setu Camp) অন্নপূর্ণা যোজনার গ্রাহক দেবদত্তা দাসের অভিযোগ, “তিন দিন ধরে ক্যাম্প হবে ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু আজ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্ট্যাটাস আপডেটের জন্য লাইনে দিয়েছিলাম। কিচ্ছু হচ্ছে না। মানুষ গরমে বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বলছে কাজ হবে না। সাধারণ মানুষ সকালবেলা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে অন্য কাজ ফেলে, সময়ের মূল্য নেই। কোনও অফিসার নেই।”
অন্য গ্রাহক ডল মণ্ডল বলেন, “বিজেপি পার্টি অফিসে যাই, আমাদের চার মাস টাকা ঢুকছে না। আন্ডারপ্রসেস হয়ে আছে। তখন জানায় সেবা সেতু ক্যাম্পে গিয়ে কাজ করা হবে। এখানে এসে দেখছি শুধু আয়ুষ্মানের কাজ হচ্ছে। আমরা যে ভোর চারটে থেকে লাইন দিয়ে রয়েছি তাহলে আমাদের কী হবে।”(Seva Setu Camp)
সামর্পিতা ভট্টাচার্যের কথায়, “বয়স্ক থেকে শুরু করে আমরা সবাই রয়েছি। সেবা সেতু ক্যাম্পে কোনো কাজ হচ্ছে না। বাইরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন করলাম। তারপর বলছে কাজ হবে না। ওনাদের কাছেও সঠিক কোনো তথ্য নেই। ভোর পাঁচটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।”
বন্দুক নিয়ে হামলার অভিযোগ, তারপর গণপিটুনি; সোনারপুরে মৃত্যু যুবকের
কলকাতায় ১৫৭টি ক্যাম্প, ৪৬ পরিষেবা
কলকাতা পুরসভা এলাকায় আগামীকাল থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জনকল্যাণ শিবিরের ধাঁচে (Seva Setu Camp) সেবা সেতু অভিযান চলবে। পুর-কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানান, ১৫টি দপ্তরের ৪৬টি পরিষেবা দেওয়া হবে। ক্রেতা সুরক্ষা থেকে খাদ্য সরবরাহ—বিভিন্ন দফতরের পরিষেবা থাকবে। দু’ থেকে তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট ১৫৭টি ক্যাম্প হবে।
তিনি জানান, “এই ক্যাম্পে স্পেশাল হেলথ কাউন্টার থাকবে। ডেঙ্গু সিজন তাই ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া ও টিভি স্ক্রিনিং ফেসিলিটি থাকবে। ই-কেওয়াইসি ফেসিলিটি এবং আই ক্যাম্প জায়গা থাকলে হবে। ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প স্কিম, সেগুলোও থাকবে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করা হচ্ছে।” তাঁর আশ্বাস, তিন দিনের পরেও প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ক্যাম্প করা হবে।
অনলাইন পরিষেবায় সমস্যা, পুরনো পদ্ধতিতে কাজ
অনলাইন পরিষেবায় সমস্যা নিয়েও মুখ খোলেন স্মিতা পান্ডে। তাঁর কথায়, “এটা শুধুমাত্র কলকাতা পৌরসভা নয়, এটা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সমস্যা হচ্ছে। একটা অসুবিধার জন্য আমাদের এই ব্যবস্থা করছে। স্যালারি সবার হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত হয়নি তেমন কোনো ঘটনা নেই। আমাদের পুরনো পদ্ধতিতে আমরা এটা করছি। তবে বিষয়টা দু-একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। এটা মেরামতের কাজে প্রবলেম হচ্ছে। পুরোপুরি অনলাইন থাকায় সমস্যা হচ্ছে।”
নারীদের সম্মান জানিয়ে কলকাতা বাস-ও-পিডিয়ার উদ্যোগ ‘বাস যাত্রা ৪.০’, হাজির মন্ত্রী অর্জুন সিং
রাস্তা মেরামতে ১৩টি গাড়ি
বৃষ্টির কারণে রাস্তা মেরামতির কাজ ব্যাহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৫ অক্টোবর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় মেরামত করা রাস্তা ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরসভা এলাকা পাঁচটি ভাগে ভাগ করে সিনিয়র অফিসারদের পরিষেবা পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৩টি রোড মুভেবল রিপেয়ার কার দিয়ে পটহোল মেরামতের কাজ চলছে।
নাগরিকদের জন্য কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুম ও পাবলিক গ্রিভেন্স সিস্টেম এক করা হয়েছে।
রাস্তা, পানীয় জল-সহ নাগরিক সমস্যার অভিযোগ জানানো যাবে নিম্নলিখিত নম্বরে:-
- ২২৮৬-১২১২/১৩১৩/১৪১৪, ২২২৬৯৯০৯
- টোল-ফ্রি ১৮০০৩৪৫৩৩৭৫
- হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ৮৩৩৫৯৯৯১১১
ডেঙ্গি নিয়ে নজর কলকাতায়
স্মিতা পান্ডে জানান, গতবারের তুলনায় ডেঙ্গির প্রকোপ এখনও অনেকটাই কম। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি কেস নথিভুক্ত হয়েছে। সাতটি ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি এলাকায় বিশেষভাবে চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ম্যালেরিয়ার কিছু কেস থাকলেও আতঙ্কের মতো পরিস্থিতি নেই বলে জানান তিনি। বর্তমানে কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যেই ছাড়া পেয়েছেন।
কীভাবে করলেন লড়াই? স্মিত জানালেন, ‘হনুমান চালিশাতেই মিলেছিল শক্তি’












1 thought on “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ, সেবা সেতুতে পরিষেবা না মেলায় ক্ষোভ সোনারপুরে; কলকাতায় কবে শুরু ক্যাম্প?”
Comments are closed.