SIR-এর ফর্ম জমাকে কেন্দ্র করে হয়রানি হতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ উঠছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, অবরোধ, ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে (sir protest)।
সন্দেশখালি
সাধারণ মানুষকে নোটিশ পাঠানো পাশাপাশি হয়রানি করা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ন্যাজ্যাট থানা এলাকার সন্দেশখালি ১ নম্বর বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালালো ক্ষিপ্ত জনতা। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, শুনানি পর্বে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য হবে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে অ্যাডমিট কার্ভ নিয়ে শুনানির জন্য বিডিও অফিসে যান সাধারণ নাগরিকরা। অভিযোগ, মাধ্যমিকের অ্যাডমিড কার্ড জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই উত্তেজিত গ্রামবাসী বিডিও অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করে দেন।
বারাসত
SIR এ হয়রানির অভিযোগ তুলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত গেঞ্জি মিলে। এদিন বারাসত কাজীপাড়া এলাকার শতাধিক মানুষ রাস্তা অবরোধ করেন। তাদের অভিযোগ, গ্রামের ৪০ শতাংশ মানুষকে SIR এর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে বারসাত যশোর রোডের গেঞ্জি মিল এলাকায় রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে অবরোধ থাকার কারণে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। শেষে বারাসত থানার বিশাল পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলে।

বাদুড়িয়া
SIR এ হয়রানির অভিযোগে রাস্তা অবরোধ বাদুড়িয়ায়। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে। বাদুড়িয়া থানার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুদেবপুরের ঘটনা।
হয়রানির অভিযোগ তুলে গ্রামবাসীরা বাদুড়িয়া-বেড়াচাঁপা রোডে বাসুদেবপুরে রাস্তা অবরোধ করেন। অবরোধ তুলতে গেলে বাদুড়িয়া থানার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষভকারীদের বচসা শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে।
বাসন্তী
SIR-এর ফর্ম জমাকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগ বাসন্তীতে। শুনানি কেন্দ্রে ব্যাপক গোলমাল হয়। আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখালে বন্ধ হয়ে যায় শুনানির কাজ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ SIR শুনানি নামে তাদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।
চুঁচুড়া
SIR-এর ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় হুগলির চুঁচুড়ায়। পুরসভার ২২ নম্বর বুথে ৩০০ জন সংখ্যালঘুর নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। চুঁচুড়া বিধানসভার ২২ নম্বর বুথ পোলবার রাজহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ওই বুথে মোট ৩০০ জন ভোটারের নামে ফর্ম ৭ জমা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওটি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এলাকার বিএলওকে একাধিক ফর্ম ৭ তুলে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে রাত বারোটার মধ্যেই ফর্মগুলো জমা করার নির্দেশও দেওয়া হয়। ফর্মে কেউ মৃত, আবার কেউ ভারতের নাগরিক নয় বলে দেখানো হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজহাটের ভুয়াগাছি এলাকা। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যান্ডেল মোড় থেকে পোলবা রোডগামী ভুয়াগাছি মোড়ে পথ অবরোধ করেন। রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
চন্দ্রকোনা
SIR হয়রানির অভিযোগ পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় ২ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণপুর ২৯ নম্বর বুথের বাসিন্দাদের। কেন হয়রানি করা হচ্ছে তা নিয়ে BLO-র কাছে কৈফিয়ত চান গ্রামবাসীর। কেউ BLO-র কাছে দাবি করছেন, AI দিয়ে কাজ করার ফলেই সমস্যা। তবে অনেকেরই নামের সমস্যা, বাবার নাম ভুল থাকার কারণেই আসছে হেয়ারিংয়ের নোটিশ। ইতিমধ্যেই গ্রামে ৮২০ জন ভোটারের মধ্যে ২৫৭ জনের নোটিশ এসেছে। সব মিলিয়ে SIR নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম।









