আদালতে দেওয়া একটি পুরনো বিবৃতিকে ঘিরে বড় পদক্ষেপ (Delhi High Court) দিল্লি হাইকোর্টের। ২০১৬ সালে একটি মামলায় CBI-এর দেওয়া জবাবে প্রশাসনিক মন্ত্রকের সঙ্গে ‘চিঠি আদান-প্রদান’ চলছে বা যোগাযোগ চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, সেই সময় আসলে মন্ত্রকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ চলছিল না, CBI-এর অভ্যন্তরীণ স্তরেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। এই ঘটনায় ছয় CBI আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কী ঘটেছিল ২০১৬ সালে?
মামলাটি প্রাক্তন IRS আধিকারিক অশোক কুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলাকে কেন্দ্র করে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে (Delhi High Court) দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদনকে অবৈধ ঘোষণা করে তাঁকে ছেড়ে দেয়। পরে জুনে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, উচ্চতর আদালতে যাওয়ার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। ১ জুলাই সেই মতামত DoPT-এর মাধ্যমে CBI-কে জানানো হয়।
এরপর বাজেয়াপ্ত নথি ফেরত চেয়ে আবেদন করেন অশোক কুমার আগরওয়াল। ২ অগস্টের জবাবে CBI জানায়, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনিক মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং নথিগুলি ভবিষ্যৎ মামলায় প্রয়োজন হতে পারে।
খসড়া বদলের দিকেও নজর আদালতের
তবে (Delhi High Court) হাইকোর্টের মতে, সেই সময়ে DoPT-এর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ চলছিল না। CBI-এর অভ্যন্তরীণ নথি ও পরপর তৈরি খসড়া পরীক্ষা করে আদালত দেখতে পায়, আগের একটি খসড়ায় DoPT-এর SLP সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা ছিল। পরে তা বাদ দিয়ে হাতে লেখা হয়—মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
বিচারপতি মধু জৈনের মতে, অভ্যন্তরীণ প্রস্তাবকে বাইরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলমান যোগাযোগ হিসেবে দেখানো যায় না। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারার অধীনে অভিযোগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করে। আদালত জানিয়েছে, এই পর্যায়ে আধিকারিকদের দোষী বলা হচ্ছে না; অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্যই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আধারে নাম বদলাতে নতুন নিয়ম UIDAI-এর, কোন ভুলে কী নথি লাগবে?
ছয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
(Delhi High Court) আদালত সুশীল দেওয়ান, বিনীত বিনায়ক, অমিত কুমার, রমন ত্যাগী, প্রেম কুমার গৌতম এবং মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ বিচারকের কাছে অভিযোগ তৈরি করে এক্তিয়ারভুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
পরে দেওয়া জবাবও রেহাই দিল না
৯ অগস্টের অতিরিক্ত জবাবে CBI জানায়, প্রস্তাবটি ৮ অগস্ট DoPT-তে পাঠানো হয়েছিল। হাইকোর্টের মতে, এই তথ্যই দেখায় যে ২ অগস্ট পর্যন্ত বিষয়টি অভ্যন্তরীণ পর্যায়েই ছিল। পরে দেওয়া জবাব আগের বক্তব্যকে পুরোপুরি সমর্থন করেনি।
অভিযোগ মানেই দোষী নন
তবে (Delhi High Court) আদালত স্পষ্ট করেছে, অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ কোনও আধিকারিককে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের। আদালত আরও বলেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের উপর প্রভাবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিলম্বের যুক্তিও আদালত খারিজ করেছে।
স্কুলে খেলার ‘অপরাধ’, ৮২ পড়ুয়ারকে অর্ধেক ন্যাড়া করে শাস্তি











