প্রথা মেনে রাজ্যপালের ভাষণ দিয়ে শুরু হয় রাজ্য বাজেট। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকাররের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বিধানসভায় সৌজন্য অনুসারে, ভাষণ শেষে রাজ্যপাল বিধানসভা থেকে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দেন। সঙ্গে ছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। পরে অধিবেশনে ফিরে স্পিকার বিরতি ঘোষণা করেন।
অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্টস) পেশ করলেন রাজ্যের অর্থ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এবছরই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই অর্থে এটাই তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেট। এদিন দুপুর ২.৩০ নাগাদ রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা শুরু করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের জল্পনা ছিল, মহিলা ভোট ধরে রাখতে অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষীর ভাণ্ডারে টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাড়ানো হলো লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকার পরিমাণ। ৫০০ টাকা করে বাড়ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা এই প্রকল্পের মাধ্যে পান মাসে এক হাজার টাকা। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পান মাসে ১,২০০ টাকা। এবার থেকে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা পাবেন ১৫০০ টাকা। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন মাসে ১৭০০ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই ঘোষণা কার্যকর হবে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন চন্দ্রিমা। এতদিন পর্যন্ত ১৮ শতাংশ ডিএ পেতেন সরকারি কর্মীরা। এবার পাবেন ২২ শতাংশ। আজই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের ১০০ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দিতে। ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে।
বাজেটে নয়া প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। রাজ্যে চালু হচ্ছে বাংলার যুবসাথী নামে একটি নতুন প্রকল্প। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষিত প্রজন্মকে কর্মসংস্থানে সাহায্য করতে এই প্রকল্প। প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া হবে পাঁচ বছর পর্যন্ত।
বাড়ানো হয়েছে প্যারা টিচারদের পারিশ্রমিক। প্যারা টিচারদের পারিশ্রমিক আরও ১০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বাড়নো হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের পারিশ্রমিকও। সিভিক ভলান্টিয়ারদের পারিশ্রমিক ১০০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রাজ্য বাজেটে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও সিভিক ভলান্টিয়ারের কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে সেই কর্মীর নিকট পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। আগে তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো।
আশাকর্মীদের জন্যও বড় ঘোষণা রাজ্য বাজেটে। কর্মরত অবস্থায় আশা ও আইসিডিএস কর্মীর মৃত্যু হলে, পরিজনরা এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবেন।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য আরও একি খুশির খবর। বাজেটে সপ্তম পে কমিশনের কথা ঘোষণা করা হয়। এই বাজেটে ছিল গিগ ওয়ার্কারদের প্রসঙ্গও। যারা জ়োম্যাটো, সুইগিতে ডেলিভারির কাজ করেন তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আওতায় আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই বাজেট যে ভোটের দিকে তাকিয়ে তা বুঝতে সমস্যা হয়নি কারও।








