ইরান যুদ্ধে তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। বারুদের গন্ধ যেন থামছেই না। হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে একের পর এক ট্যাঙ্কার। যার জেরে গোটা বিশ্বে জ্বালানি ঘিরে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতেরই প্রতিবেশি দেশ শ্রীলঙ্কা এক বড় সিদ্ধান্ত নিল। আপাতত জ্বালানি সংকট সামাল দিতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা, সেদেশে সপ্তাহে ৪ দিন কর্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাতে ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। শনিবার ও রবিবারের পাশাপাশি এবার থেকে শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka Oil Crisis) এই পরিস্থিতিতে বুধবারও সাপ্তাহিক ছুটি জারি থাকবে।
এবিষয়ে, সংবাদ সংস্থা পিটিআই-তে এক শ্রীলঙ্কান কর্তা, ‘১৮ মার্চ থেকে প্রতি বুধবারকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ নতুন নিয়মটি সরকারি কর্মচারী (Sri Lanka Oil Crisis), সমস্ত সরকারি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকার জানিয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত থাকবে।
এমনকী সরকারি কর্মীদের জন্য কর্মদিবস ও ছুটির এই নয়া নিয়ম চালু হয়েছে, তা নয়। প্রাইভেট সেক্টরগুলিকেও এমন কর্মদিবস মেনে চলার অনুরোধ করেছে সরকার। চন্দ্রকীর্তি জানিয়েছেন, বেসরকারি খাতকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বুধবার ছুটি ঘোষণা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কমিশনার জেনারেল অফ এসেনশিয়াল সার্ভিসেস আরও বলেছেন যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তাদের কর্তব্যের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে সপ্তাহের অন্য চারটি কর্মদিবসে কর্মচারীদের কাজের জন্য ডাকার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’
রবিবার শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি মজুদ পরিচালনার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে QR ভিত্তিক জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা বদলানো হয়েছে। ডেইলি মিরর জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার অধীনে, শুধুমাত্র বৈধ QR কোডযুক্ত যানবাহনগুলিকেই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও, যানবাহনের বিভাগ অনুসারে সাপ্তাহিক জ্বালানি কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, বাইকের জন্য প্রতি সপ্তাহে ৫ লিটার, চারচাকার গাড়ি এবং তিন চাকার গাড়ির জন্য ১৫ লিটার তেল সরবরাহ করা হবে। ভ্যান ৪০ লিটার, বাস ৬০ লিটার এবং মোটর লরিকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হবে।












