দেশের অসামরিক বিমান চলাচলে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নির্দেশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক । কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতিটি বিমানে ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বাছাইযের সুযোগ করে দিতে হবে যাত্রীদের। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেশের প্রধান বিমান সংস্থাগুলির। তারা সকলেই এই সিধান্তের বিরোধীতা করেছে।(Aviation News)

এই সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইন্ডিগো (IndiGo), এয়ার ইন্ডিয়া(Air India) এবং স্পাইসজেট (SpiceJet)। বিমান সংস্থাগুলির মতে, পছন্দসই আসন নির্বাচনের জন্য নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ তাদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই উৎস বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাধ্য হয়ে যাত্রীভাড়া বাড়াতে হবে। ফলে, যারা আসন নির্বাচন করতে চান না। তারাও শেষ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়ার বোঝা বইতে বাধ্য হবেন।(Aviation News)
গত ১৮ মার্চ কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক এই নির্দেশ জারি করে। যাত্রীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকরের জন্য দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টটরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং ‘ক্ষতিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স(F.I.A)। সংগঠনটি অসামরিক বিমান চলাচল সচিব সমীর কুমার সিনহাকে চিঠি দিয়ে নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।(Aviation News)
চিঠিতে বলা হয়, বিমান সংস্থাগুলি অত্যন্ত কম লাভে ব্যবসা চালায়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং বিমানবন্দর সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আসন নির্বাচনের মতো অতিরিক্ত পরিষেবা থেকে পাওয়া আয় তাদের টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বর্তমানে আসন নির্বাচনের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা বেশি নেওয়া হয়, যা আসনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এই আয় হঠাৎ কমে গেলে সামগ্রিক ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা থাকবে না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিমান সংস্থাগুলির আরও অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি।(Aviation News)
তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে। যার জেরে ভবিষ্যতে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই খাতে চাপ বাড়াচ্ছে।পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, একই সঙ্গে জ্বালানির দামও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যাত্রী স্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের উপরই বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিমান সংস্থাগুলি।(Aviation News)













1 thought on “Aviation News: কেন্দ্রের নির্দেশে বিপাকে বিমান সংস্থা, চাপ পড়বে যাত্রীদের পকেটেই?”