
প্রত্যেকটা মেয়ের জীবনে প্রথম পুরুষ হয় তার বাবা। এই বাবার হাত ধরে চলতে শেখার থেকে বাবার চোখ দিয়ে স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে প্রতিটা মেয়েই এগিয়ে যায় আগামীর পথে। যেই হাতে ছোট্টটিকে মানুষ করা, সেই হাত যখন নিয়মের প্রোটোকল মেনে মেয়েকে স্যালুট জানায়। গর্বে, আবেগে ভরে ওঠে পিতার হৃদয়। ( IPS Daughter)
বিহারের বেগুসরাই জেলার ছোট্ট গ্রাম মহেন্দ্রপুরে এই ক’দিন যেন এক অন্যরকম আলো ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের সরু পথ, উঠোন আর চায়ের দোকানের আড্ডায় একটাই নাম, রুচি সিং। কারণ, এই গ্রামের মেয়েই এবারের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ১৭১তম স্থান অর্জন করে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগ দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
কিন্তু রুচির এই সাফল্যের গল্প শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কাহিনি নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একজন বাবার স্বপ্ন, এক মেয়ের অদম্য পরিশ্রম এবং খাকি পোশাককে ঘিরে বড় হয়ে ওঠা এক দীর্ঘ যাত্রাপথ।
রুচির বাবা রাম শঙ্কর সিং পেশায় একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। বছরের পর বছর খাকি পোশাক পরে কর্তব্য পালন করা এই মানুষটির এখন অপেক্ষারত এক অনন্য মুহূর্তের জন্য। নিয়মের প্রোটোকল মেনেই তাকে স্যালুট জানাতে হবে নিজের মেয়েকে, একজন আইপিএস অফিসারকে। একজন বাবার কাছে এর চেয়ে গর্বের মুহূর্ত আর কী-ই বা হতে পারে!
গ্রামের মানুষ বলছেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার খাকি পোশাক, দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ রুচির মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। হয়তো সেই দৃশ্যই তার মনে বুনে দিয়েছিল আগামীর স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে বছরের পর বছর নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন তিনি। রুচির শিক্ষাজীবনও সেই অধ্যবসায়েরই প্রতিচ্ছবি। বেগুসরাইয়ের বিআরডিএভি পাবলিক স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তিনি দিল্লির ডিপিএস আর.কে. পুরমে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর দিল্লির ঐতিহ্যবাহী সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।পড়াশোনার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি বিহারের লক্ষীসরাই জেলার ডিপিআর অফিসে একজন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রুচির এই সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই যেন আনন্দে ভেসেছে মহেন্দ্রপুর গ্রাম। কোথাও মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে, কোথাও আবার গ্রামের মানুষ অপেক্ষা করছেন তাদের মেয়ের ঘরে ফেরার জন্য। অনেকেই বলছেন, রুচি শুধু তার পরিবারের নয়, আমাদের গোটা গ্রামের গর্ব।
প্রসঙ্গত , ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) শুক্রবার ২০২৫ সালের সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (IAS), ভারতীয় পররাষ্ট্র পরিষেবা (IFS), ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা (IPS) এবং কেন্দ্রীয় পরিষেবাগুলির গ্রুপ ‘A’ ও ‘B’-তে মোট ৯৫৮ জন প্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় কোটার চিকিৎসক অনুজ অগ্নিহোত্রী সর্বভারতীয় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রাজেশ্বরী সুভে এম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আকাঙ্ক্ষা ধুল।











