কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় ফের সামনে এল নতুন তথ্য। এবার অভিযুক্ত সিয়া গোয়ালের ভাই সাহিল গোয়াল প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, অ্যাডভোকেট আশুতোষ শ্রীবাস্তব তাঁদের পরিবারের আইনজীবী নন। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেছেন যে প্রতারণা করে সিয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাহিল বলেন, “আমরা কখনও আশুতোষ শ্রীবাস্তবকে আমাদের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করিনি। তিনি কী দাবি করছেন, সে সম্পর্কে আমাদের কোনও ধারণা নেই।” তাঁর অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে সিয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পরিবার ইতিমধ্যেই একটি হলফনামাও জমা দিয়েছে। পাশাপাশি, ওই আইনজীবী তাঁদের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাহিল। (Ketan Agarwal Murder Case)
কয়েকদিন আগেই আশুতোষ শ্রীবাস্তব নিজেকে সিয়া গোয়ালের আইনজীবী দাবি করে বলেছিলেন, পুলিশ এখনও পর্যন্ত সিয়ার বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পায়নি। তাঁর দাবি ছিল, কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর জন্য সিয়াকে দায়ী করার মতো কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষীও নেই।
এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, কেতন এবং সিয়ার বালিতে ঘুরতে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা ছিল। সাহিলও স্বীকার করেছেন যে সেই সফর ঠিক হয়েছিল। তবে তাঁর কথায়, কেতনের পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই সফর বাতিল করতে হয়।
তবে পুলিশের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিয়ের আগে ফটোশুটের জন্য ৬ জুন বালিতে যাওয়ার কথা ছিল কেতন ও সিয়ার। সেই সফর ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে কেতনের পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়ালের হত্যার আগে থেকেই সাজানো বড় ষড়যন্ত্রেরই অংশ। (Ketan Agarwal Murder Case)
#WATCH | Ketan Agarwal murder case | Lonavala, Maharashtra: Sahil, accused Siya's brother says, "We have never hired him (Advocate Ashutosh Srivastava) and he is not someone that we have hired from our family. I know nothing about what he is claiming…" pic.twitter.com/pYqr6DX6dx
— ANI (@ANI) June 29, 2026
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, বিয়ের খরচের অজুহাতে সিয়া কেতনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা বিয়ের কাজে খরচ না করে প্রেমিক চেতন চৌধুরীর হাতে তুলে দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থ নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে বলে ভেবেছিল চেতন।পুলিশের আরও দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন প্রায় তিন বছর আলাদা থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, তারা ভেবেছিল এই সময়ের মধ্যে মামলাকে ঘিরে সবার আগ্রহ কমে যাবে এবং সেই সুযোগে চেতন আর্থিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেবে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের দিকেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে মনে করছে পুলিশ। (Ketan Agarwal Murder Case)










