মহারাষ্ট্রে এতদিন অযোগ্যরা পাচ্ছিলেন ‘লড়কি বহিন যোজনা’-র (Ladki Bahin Yojana) টাকা। এবার এই তালিকা থেকে বাদ গেল ৯২ লক্ষ মহিলার নাম। কিন্তু কেন সরকারি স্ক্রুটিনিতে উপভোক্তাদের তালিকা থেকে নাম বাদ গেল?
সূত্রের খবর, ‘লড়কি বহিন যোজনা’র (Ladki Bahin Yojana) তালিকা থেকে ৯২ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার এর কারণ হিসেবে অসম্পূর্ণ e-KYC ও আয়ের সীমা লঙ্ঘন এবং বয়স সংক্রান্ত শর্ত এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত নানা বিষয় উল্লেখ রয়েছে। গতমাসেই একনাথ শিন্ডে-দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার জানিয়েছিল যে, e-KYC প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পর প্রায় ৮০ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্ক্রুটিনির কাজ যত এগোচ্ছে, এই পরিসংখ্যান থেকে মহিলাদের নামের একটা বিরাট অংশ বাদ যেতে চলেছে (Maharashtra Ladki Bahin Yojana update)।
স্ক্রুটিনিতে দেখা গিয়েছে, উপভোক্তাদের প্রায় ৫০-৫৫ লক্ষ মহিলা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রায় ১২ লক্ষ মহিলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। অন্যদিকে ৪.৫ লক্ষেরও বেশি মহিলার বয়স প্রকল্পের সর্বোচ্চ যোগ্যতার চেয়ে বেশি ছিল। প্রায় ১২ লক্ষ সুবিধাভোগীকে আয়করদাতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৫ লক্ষ নারী ইতিমধ্যেই ‘নামো শ্বেতকারী যোজনা’-র সুবিধা পাচ্ছিলেন। যার ফলে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পে প্রায় ১৪ হাজার পুরুষকেও শনাক্ত করা হয়েছে। যারা সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। অথচ এই প্রকল্পটি ছিল শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য।
মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, স্ক্রুটিনি পরই সুবিধাভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি, ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে মহিলাদের করা অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘লড়কি বহিন যোজনা’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাত বলেন, “লড়কি বহিন যোজনাটি মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর সেইসব মহিলাদের জন্য করা হয়েছে যারা কোনও আয় করেন না এবং গৃহস্থালীর কাজে যুক্ত। তবে, যাদের নিজস্ব চার চাকার গাড়ি রয়েছে এবং যারা আয়কর প্রদান করেন, তারাও এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়ে পড়েছিলেন। এখন তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এই প্রকল্পের ফলে রাজ্যের কোষাগারের ওপর কিছুটা চাপ পড়েছে, তবে সরকার এই ধরনের অনিয়মগুলো চিহ্নিত করছে। আমরা লাডকি বহিন যোজনা বন্ধ হতে দেব না। এই প্রকল্প চালু থাকবে।”











