পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। তারই প্রভাব ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। জ্বালানি ব্যবহারে সংযম, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো, সোনা কেনায় কাটছাঁট— এমন একাধিক বিষয়ে সতর্ক করলেন তিনি। একই সঙ্গে কোভিড পর্বের মতো ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অনলাইন মিটিং ও ভিডিও কনফারেন্স চালুরও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “করোনার সময় আমরা ঘরে বসে কাজ, অনলাইন সভা ও ভিডিও কনফারেন্সের মতো ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়েছিলাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে সেই ব্যবস্থাগুলি ফের চালু করা প্রয়োজন।” তাঁর মতে, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো গেলে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তেমনই দেশের উপর চাপও কমবে।
জ্বালানি ব্যবহার নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস অত্যন্ত সংযতভাবে ব্যবহার করা উচিত। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো।” মোদির বক্তব্য, ভারত এখনও জ্বালানির ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বনির্ভর নয়। দেশের চাহিদার বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির অপচয় রোধ করা জাতীয় দায়িত্ব।
বাংলায় শিল্প আসছে, Google-কে রাজ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব সরকারের
পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাত এবং আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকার পেট্রল, ডিজেল ও গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায়নি, তবে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।
এই আবহেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সংযমের বার্তা সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত বহন করছে।
ইতিমধ্যেই ভোটপর্ব শেষ হতেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে বড়সড় বৃদ্ধি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৯৯৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অটো এলপিজির দামও ৬ টাকা ৪৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এবার গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে পারে।
এদিন বৈদেশিক মুদ্রার রিজ়ার্ভ বাঁচাতেও দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্তত এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, বিদেশে ছুটি কাটানো কিংবা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি সোনা কেনাতেও সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, “জাতীয় স্বার্থে এখন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
চোখের পলকে বললেন বাইবেলের ৬৬টি বইয়ের নাম, রেকর্ড বইয়ে জায়গা শিলিগুড়ির অনিন্দিতার
শুধু তাই নয়, গণপরিবহন ব্যবহার, মেট্রো পরিষেবা ও কারপুলিংয়ের উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমাতে পারলে দেশের জ্বালানি খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
তবে এই সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তাও দিতে ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের একাংশে কংগ্রেসকেও নিশানা করেন তিনি।













1 thought on “Narendra Modi: ‘পেট্রল-ডিজেল বুঝে ব্যবহার করুন’, দেশবাসীকে সতর্কবার্তা মোদীর, পরামর্শ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর”