এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ল রান্নার গ্যাসের। ফের গৃহস্থের পকেটে টান পড়ল। ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পিছু দাম ২৯ টাকা বেড়েছে। এখন গ্রাহকদের খরচ করতে হবে ৯৬৮ টাকা। গত কয়েক মাস ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর। এবার সেই চাপ এসে পড়ল সাধারণ পরিবারের রান্না ঘরে। মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাও প্রকাশ করেছে (LPG Price Hike)।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে খরচ পড়ছে ১,৬০০ টাকারও বেশি, কিন্তু গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৯৪২ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৭০০ টাকার আর্থিক ঘাটতি বহন করতে হচ্ছে তেল সংস্থাগুলিকে (LPG Price Hike)।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে সৌদি সিপি বা কন্ট্রাক্ট প্রাইস বেঞ্চমার্ক প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আমদানি খরচ অনেকটাই বেড়েছে। গত অর্থবছরে গার্হস্থ্য এলপিজি খাতে আন্ডার-রিকভারির পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যা তার আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্বের জ্বালানির একটা অংশ সমুদ্র পথের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতেও ভারত ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আমদানি চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং দেশে কোনও ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়নি। তবে আরও বেশকিছুদিন গেলে ঘাটতি হওয়ার সম্ভবনা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনার সুবিধাভোগীরা ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। তাঁরা ৬৪২ টাকায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন। কলকাতার সাধারণ গ্রাহকরা খরচ করছেন ৯৬৮ টাকা। প্রতিটি সিলিন্ডারের আসল দাম ১৬০০ টাকার বেশি।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে জ্বালানির বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে এলপিজি (LPG Cylinders) সহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের মূল্য নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের আশা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভবিষ্যতে আবারও দাম কমানোর পথে হাঁটবে সরকার ও তেল সংস্থাগুলি।












